সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
২০০৬ সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলে বাংলাদেশ এবং কিরগিজস্তান মুখোমুখি হয়েছিল। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সেই লড়াইয়ে বাংলাদেশ হেরেছিল ৬-০ গোলে। এখন যারা বাংলাদেশ দলে খেলছেন তারা তখন ফুটবলেই আসেননি। ২০১৬ সালে ঢাকায় অনূর্ধ্ব-১৬ এএফসি কাপ ফুটবলে বাংলাদেশ ১০-০ গোলে কিরগিজস্তানকে হারায়। তখন আজকের সানজিদা, মারিয়া, স্বপ্না, কৃষ্ণারা খেলেছিলেন। দুঃখ স্মৃতি এবং সুখস্মৃতি দুটোই রয়েছে বয়স ভিত্তিক ফুটবলে। তের বছর পর আবার অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলে বাংলাদেশ ও কিরগিজস্তান মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশের নিজেদের টুর্নামেন্টে।
আরব আমিরাতের বিদায়ের কারণে বাংলাদেশ এবং কিরগিজস্তান সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যায়। আজ এই দুই দল মাঠে নামবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য। দুই দলের মধ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে গোল গড়ের কারণে। বাংলাদেশ গোল হজম করেনি কিরগিজস্তান এক গোল হজম করেছে। এই হিসেব আজকের খেলায় কাজে আসবে না। যারা আরব আমিরাতের বিপক্ষে কিরগিজস্তানের খেলা দেখেছেন তারা জানেন কিরগিজস্তান কতোটা শক্তিশালী। টেকনিক এবং টেকনিক্যাল দিক থেকে কিরগিজস্তান শক্তিশালী। কথাটা শুনেই বাংলাদেশের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বললেন আমরাও এগিয়ে রয়েছি আমাদের টেকনিক্যাল এবং টেকনিক অনেক উন্নত।’
ছোটন যে কথাই বলুন বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবলে বাংলাদেশ এবং কিরগিজস্তানের নিজ নিজ প্রথম ম্যাচে পারফরম্যান্সের পার্থক্যটা পরিষ্কার হয়ে গেছে। বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে টেকনিকে এবং টেকনিক্যালের দিক হতে। কিরগিজস্তানের কয়েকজন ফুটবলার রয়েছেন যাদের খেলা নজর কেড়েছে। বাংলাদেশের ভাগ্য ভালো এদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফুটবলার বোরোন বেকোভা আইজান লালকার্ড পেয়েছেন। তিনি আজ খেলতে পারবেন না। এই ফরোয়ার্ড না থাকায় বাংলাদেশের ডিফেন্স লাইনে স্বস্তি। দুর্দান্ত ফুটবল খেলেন বোরোন বোকোভা। আরব আমিরাতের জালে গোল করেছেন কর্নার হতে। কর্নারে বল বসিয়ে যে শটটি নিয়েছেন সেটি ছিল অসাধারণ। রংধনুর মতো বাঁক খেয়ে বল জালে ঢুকে যায়। এই কিরগিজ ফুটবলার যতক্ষণ মাঠে ছিলেন ততক্ষণ তটস্থ থাকতে হয়েছিল আরব আমিরাতের রক্ষণভাগকে।
তবে দলের অধিনায়ক মৌসুমী বলছেন, ‘আমরা ওদের ম্যাচ দেখেছি। কিরগিজস্তান ভালো টিম এবং ওরা ভালো খেলছে। ওদের শক্তি, দুর্বলতাগুলো নিয়ে কোচরা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কিরগিজদের সবকিছু নিয়ে আলোচনা হয়েছে আমরা চেষ্টা করবো ওই জিনিসগুলো মাথায় রেখে খেলার।’ তবে দুই দলের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখছেন না মৌসুমী। তিনি বলেন,‘পার্থক্য দেখার মতো কিছু নাই। তারা যখন মাঠে নামবে, হয়তো নতুন করে নামবে। কোন টিম কোন দিন ভালো খেলবে সেটা বলা যাবে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে আজকে ভালো খেলেছি, কালকে (আজ) যে আবার ভালো খেলব তা বলতে পারব না। ঠিক একটা দলের ক্ষেত্রেও তাই। তাই তাদেরকে হালকাভাবে নেওয়ারও কিছু নেই।’
ডিফেন্ডার আঁখী খাতুনের চোখে কিরগিজ ফুটবলাররা শারীরিক উচ্চতায় এগিয়ে রয়েছে। আঁখী বললেন, ‘ওরা ফিজিক্যাল এবং উচ্চতা, তারা সবদিক দিয়ে ভালো।’
আরব আমিরাতের বিপক্ষে ফিনিশিং নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন কাল বলছিলেন নতুন করে কাজ করা হয়েছে। কোচ বলেন, ‘কিরগিজস্তানের খেলোয়াড়রা ফিজিক্যালি এবং টেকনিক্যালি ভালো, আমাদের মেয়েরাও ভালো। সেয়ানে সেয়ানে লড়াই হবে।’
আজকের খেলা ঃ
বাংলাদেশ ও কিরগিজস্তান। সন্ধ্যা ৬টা, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম।
