ভূঞাপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গুলি-ককটেল বিস্ফোরণ

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৯:৩৬

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অবৈধ বালুর ঘাট দখলকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

বুধবার (২ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের বাগানবাড়ি এলাকায় নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ ও একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন সরকারের লোকজনের সাথে এই সংঘর্ষ বাঁধে। আহতরা হলেন, উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের পূর্নবাসন এলাকার হযরত আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম (৩৯), পলশিয়া এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে শাহআলম (৩০), আমজাদ হোসেনের ছেলে শফিকুল (৩৫), নামদার আলীর ছেলে হোসেন আলী (৫৫), আব্দুল লতিফের ছেলে সবুজ (১৮) ও ইয়াসিনের ছেলে ইয়ামিন (৩৮)। 

জানা গেছে, উপজেলার নিকরাইলে প্রায় ২০টি অবৈধ বালুর ঘাট রয়েছে। এসব ঘাটের বালু ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। শুষ্ক মৌসুমে যমুনা নদী শুকিয়ে চর জেগে উঠলে শুরু হয় নদীর পাড় কেটে বালু বিক্রি। বুধবার দুপুরে উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হক মাসুদ এবং সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মতিন সরকারের লোকজনের সঙ্গে ভিট বালুর ঘাটের রাস্তা নির্মাণ ও দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে ৭ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে দুই পক্ষের ১০ জন আহত হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় ঘাটে বালু নিতে যাওয়া শত শত ট্রাক বঙ্গবন্ধু সেতু-ভূঞাপুর সড়কে দাড়িয়ে থাকলে যানজটের সৃষ্টি হয়। 

আহত শহিদুল ইসলাম বলেন, যমুনার নদীর বাগানবাড়ি এলাকায় অন্যের জমির উপর দিয়ে ভিট বালুর ঘাটের রাস্তা তৈরি ও দখল করতে ছিল ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের লোকজন। এ সময় তাদের বাঁধা দিতে গেলে হামলা চালায়। তাদের ছোঁড়া পাথরের আঘাতে আমার পায়ের হাড় ভেঙে গেলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।  

নিকরাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন সরকার বলেন, চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ ও নুহু মেম্বারের লোকজন বালুর ঘাট দখল করে মাটি তোলার যন্ত্র (ভেকু) ও ক্যাশ কাউন্টার ভাঙচুর করে লুটপাট করে। এ সময় তারা ককটেল ও গুলি ছুড়ে। এতে ঘাটে থাকা ৮ জন আহত হয়েছে। 

নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ জানান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির লোকজন অন্যেদের জমি দখল করে ঘাট তৈরি করছিল। এসময় তারা বাঁধা দিতে গেলে তাদের উপর আক্রমণ করা হয়। এতে ১০ জন আহত হয়েছে। 

ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল ওহাব জানান, বালুর ঘাট দখলকে কেন্দ্র করে সাবেক চেয়ারম্যান ও নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৭ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি