বিদেশি পর্যবেক্ষক আনতে চায় ইসি

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:৫৩

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বিদেশি পর্যবেক্ষক আনার চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অন্যান্য নির্বাচনের মতো এবারও কমনওয়েলথ ও সার্কভুক্ত দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দিতে যাচ্ছে কমিশন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যেসব নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশ কাজ করছে ওইসব সংস্থাকেও আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশি পর্যবেক্ষকদের অন অ্যারাইভাল ভিসা প্রদানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স (ছাড়পত্র) দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গতকাল রবিবার বলেছে, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভিসা প্রসেসিং ও নিরাপত্তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপিসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের বর্জনের মুখে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র চারজন বিদেশি পর্যবেক্ষক এসেছিল। কিন্তু ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে প্রায় ছয়শ’জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এসেছিলেন। এদের বেশিরভাগই ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর। এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যবেক্ষণে আসছে না বলে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ইসির একজন কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, এ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে এ নির্বাচন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তারা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে কী না কমিশন তা পর্যবেক্ষণ করছে।

ইসি সূত্রে আরও জানা গেছে, কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত সংস্থাটির সেক্রেটারি জেনারেলকে চিঠি দিতে যাচ্ছে ইসি। একইভাবে সার্কভুক্ত দেশগুলোকেও চিঠি দেওয়া হবে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাচন কমিশনারদের সংগঠন ফোরাম অব ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিস অব সাউথ এশিয়াভুক্ত  (ফেমবোসা)’ দেশগুলোর নির্বাচন কমিশনারদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

এছাড়া বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের জন্য এয়ারপোর্টে হেল্পডেস্ক বসাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইমিগ্রেশন পুলিশকে বলা হয়েছে। আর একটি মিডিয়া সেল স্থাপন ও কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের জন্য অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে তথ্য মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।