জীবনের ছুরিচিকিত্সা
হাসান ইমাম
অ্যানেসথেশিয়া বুঝি ক্ষণিকের মৃত্যুদূত;
জীবন থেকে গুম করে দেয় কিছু সময়।
সময় হারিয়ে তবু সময়ের নিয়মে-
অপারেশনের টেবিলে জীবনে ফেরে জীবন;
অচেতনের খাদে গড়িয়ে যাওয়ার আগে
তার শেষবারের হাতের স্পর্শটুকু ফুল হয়ে
ঝরে আছে হাসপাতালের বেডে-
থরে থরে, অগণন
স্ট্রেচারের পেছন পেছন যেতে যেতে
ফেলা তার মোলায়েম অশ্রুজলে ধোয়া, শুভ্র;
প্রার্থনার মৌন রং লেগে সুবাসিত।
এইসব দেখে-
জীবনের হ্রস্বতা ভোলে জীবন.
কে তুমি ফেরোনি ঘরে
পুলক রঞ্জন
কে যেন তুমি, ফেরোনি ঘরে
বর্ষামঙ্গল পার করে
হেমন্তের সকালে ধূসর আকাশে
পায়রার দেশে
প্রতিটি মুহূর্তে কতজন থাকে
সপ্তর্ষিমণ্ডলের বেশে।
নিরাপদ এর ছনের কুঁড়েঘরে
শীতের কুয়াশা নামে
ওম নেবার জন্য সমুদয় রক্ত
বন্ধক জাম এ
কে যেন তুমি, ফেরোনি ঘরে
বসন্ত এলো প্রকৃতির শরীরে
আবার চলেও গেল
নতুন করে হিসেব হলো
ছায়া কাটাকুটি খেলা চলে
শতাব্দীকাল জ্যৈষ্ঠের মধ্যদুপুরে
কে যেন তুমি, ফেরোনি ঘরে।
নর-নারীর কেটেছে বিষণ্ণ কাল
বন্ধক না মুক্তক, সবিস্তারে প্রশ্ন
চলেছে; একটা সিদ্ধান্ত আসেনি
কোনো গ্রহ বা নক্ষত্রপুঞ্জ থেকে
তবুও তারা প্রতীক্ষায় আছে
ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের বোধ চেতনায়
কে যেন তুমি ফেরোনি ঘরে
বর্ষামঙ্গল পার করে।
ফেরা না ফেরার কথকতা
সুলতানা মোসতাফা
তখন বৃষ্টি ছিল না আকাশে, ছিল না মেঘের স্তর
ছিল না সেখানে নীল রং ছবি, বালকের সুতো ছেঁড়া ঘুড়ি
সিঁদুরের রং আকাশ ছুঁয়েছে, গোলা-বারুদের হুড়োহুড়ি
উঠোনের লাশ, ধর্ষিতা বোন আমাকে ছাড়াল ঘর।
লাশের রক্তে এঁকে নেব এক নতুনের সীমারেখা
আকাশে নামাব শ্রাবণের মেঘ, বর্ষার ঘোর ঘন ঢল,
উঠোনে ছড়াব ধানের প্লাবন, জীবনের কোলাহল-
এ ছিল সাথের কাতুর্জ আর ঘুমহীন দুই চোখে আঁকা।
অথচ আজও
ধূসর জগতে বড় বেশি খরা, শকুনের ওড়াউড়ি
এই শূন্যতা, মূঢ় ব্যর্থতা নিয়ে পথে পথে ঘুরি।
