নাঙ্গলকোটের মক্রবপুর ইউনিয়নের বান্নগর গ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের প্রায় এক কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি অবৈধ রেলক্রসিং রয়েছে। এ রেলক্রসিং এলাকাবাসীর মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। অবৈধ রেলক্রসিংগুলো দিয়ে ছোট-বড় যানবাহন ও পথচারী পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
গত এক বছরে রেলক্রসিংগুলোতে দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই শিশুসহ চার জন নিহতসহ সাত/আট জন মারা গেছেন। এছাড়া গত ২০ বছরে রেলক্রসিংগুলো এবং আশ-পাশে অন্তত দুর্ঘটনায় আরো ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৯ জানুয়ারি বান্নগর গ্রামে অবৈধ রেলক্রসিংয়ে ট্রেন দুর্ঘটনায় মক্রবপুর বাজারের ফল ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেন মামুন (২৫) নিহত হয়েছেন। ঐ দুর্ঘটনার পর রেলওয়ের পিডব্লিউর প্রকৌশলী বান্নগর উত্তরপাড়া রেলক্রসিংয়ের মধ্যবর্তী স্থানে একটি পিলার পুঁতে দিয়েছেন। যাতে করে কোনো যানবাহন চলাচল করতে না পারে।
সরজমিনে বান্নগর গ্রামের রেলক্রসিংগুলোতে দেখা গেছে, উপজেলার মক্রবপুর ইউনিয়নের বান্নগর গ্রামটি ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মধ্য দিয়ে গেছে। রেলপথের দুই পাশে বান্নগর গ্রামের পূর্বপাড়া এবং পশ্চিমপাড়া অবস্থিত। গ্রামে কোনো সড়ক না থাকায় পূর্বপাড়া এবং পশ্চিমপাড়ার লোকজনকে রেলপথ এবং রেলপথের পাশ দিয়ে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। রেলপথের বান্নগর উত্তরপাড়া রেলক্রসিংয়ের মধ্য দিয়ে মক্রবপুর-হেসাখাল সড়ক এবং মধ্যমপাড়া রেলক্রসিং দিয়ে মক্রবপুর-দায়েমছাতি সড়ক গেছে। এ দুটি রেলক্রসিং দিয়ে মক্রবপুর এবং পার্শ্ববর্তী হেসাখাল ইউনিয়নের লোকজন এবং ছোট-বড় যানবাহনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। বিশেষ করে এ দুটি সড়ক দিয়ে এলাকাবাসী মক্রবপুর, বান্নগর, ভাতোড়া, টুয়া, দায়েমছাতি, মেটুয়া, হেসাখাল এবং খিলাবাজার হয়ে নোয়াখালী-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। এছাড়া নাঙ্গলকোট উপজেলা সদরসহ লাকসাম ও কুমিল্লায় যাতায়াত করেন।
এদিকে বান্নগর দক্ষিণপাড়ায় বান্নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বান্নগর পূর্বপাড়া, উত্তরপাড়া এবং পশ্চিমপাড়ার কয়েক শ কোমলমতি শিক্ষার্থী ঝুঁকিপূর্ণভাবে রেলক্রসিং পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। এছাড়া পশ্চিমপাড়ায় কোনো মসজিদ না থাকায় পশ্চিমপাড়ার লোকজনকে রেলপথ পার হয়ে উত্তরপাড়া, মাজার এবং পূর্বপাড়া মীরবাড়ী মসজিদে যাতায়াত করতে হয়।
বান্নগর উত্তরপাড়া জামে মসজিদের ইমাম সালাউদ্দিন মামুন, আবদুল খালেক, সাহাবুদ্দিন ও রফিকুল ইসলাম বলেন, পশ্চিম পাশে দুটি অবৈধ দোকান এবং বাঁশঝাড় ও গাছের কারণে পশ্চিম দিকের হেসাখাল সড়ক থেকে যে কোনো যানবাহন এবং পথচারী আসলে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা কোনো ট্রেন আসছে কি না দেখা যায় না। যার ফলে অনেক পথচারী অথবা যানবাহন সড়কের ওপর রেলপথে উঠে দুর্ঘটনার শিকার হন। তারা জরুরি ভিত্তিতে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ এবং বান্নগর উত্তরপাড়া রেলক্রসিংয়ে একটি রেলগেট নির্মাণের দাবি জানান।
রেলওয়ের ফেনী পিডব্লিউর ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) লিটন চাকমা বড়ুরা বলেন, আমরা ঢালাই করে রেলপথের ওপর সড়কটি বন্ধ করে দেব। অবৈধ দোকানের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ চট্টগ্রাম (ডিএন-১) আবদুল হানিফ বলেন, ২০১৮ সালে বৈধ রেলগেট নির্মাণ প্রকল্প শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে এলজিইডির সঙ্গে আলোচনা করে সার্ভে করে অবৈধ রেলক্রসিংগুলোর তালিকা করব। পরে সেগুলো বৈধকরণের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করব।
