কুমিল্লায় একরাতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬২৪ জনের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। বাকি ১৭৩ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া কর্মকর্তা) লুৎফর রহমান।
এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বুধবার রাতে কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোরগ্যাং বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। ওইদিন রাত থেকেই বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত আটক এসব কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ ও অতীত অপরাধ কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করা হয়। ৬২৪ জনের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকা রেখে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তারা বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। অপর ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, নিয়মিত মামলা, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তারা আদালতে রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, জেলার ১৮টি থানার মধ্যে সর্বোচ্চ ৭১ জন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৩০ জনকে মুচলেকা রেখে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকী ৪১ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সদর দক্ষিণ মডেল থানায় ৪৬ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪২ জনকে মুচলেকা রেখে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৪ জনের মধ্যে ২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল, ৭ জনকে ৩৪ ধারায় এবং ৫ জনকে ১৫১ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোরগ্যাং বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এসময় ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। দাউদকান্দিতে ৫৯ জনকে আটক করা হয়। রাতে থানার দরজা ভেঙে ১৭ কিশোর পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

