চট্টগ্রামে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী কুস্তি প্রতিযোগিতা ‘আব্দুল জব্বারের বলীখেলার’ ১১০তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন কুমিল্লার শাহজালাল বলী। প্রায় ২৬ মিনিট লড়াইয়ের পর কক্সবাজারের চকরিয়ার তারিকুল আলম জীবন বলীকে হারিয়ে এ কৃতিত্ব অর্জন করেন গতবারের রানার্স আপ শাহজালাল। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে বন্দরনগরীর লালদিঘী ময়দানে উত্সবমুখর পরিবেশে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা পরিচালনা করেন সাবেক চসিক কাউন্সিলর আবদুল মালেক। তাকে সহযোগিতা করেন মোহাম্মদ লেদু ও জাহাঙ্গীর আলম। সেমিফাইনালে শাহজালাল পরাজিত করেন মহেষখালীর সাহাবউদ্দিন বলীকে। অপর সেমিফাইনালে জীবন বলী পরাজিত করেন মহেষখালীর মো. হোসেনকে।
এর আগে সিরাজগঞ্জের মো. শফিকুল ইসলাম ও মহেশখালীর সিরাজুল মোস্তফার মধ্যে লড়াইয়ের মাধ্যমে শুরু হয় এই আসর। প্রথম রাউন্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৬২ জন। এর মধ্যে জয়ী হন বাঁশখালীর সরোয়ার, শহীদুল আলম, পশ্চিম মাদারবাড়ির মো. সবুজ, স্টেশন রোডের আল আমিন, নালাপাড়ার দশম শ্রেণির ছাত্র মো. ইব্রাহিম, বাঁশখালীর খোরশেদুল আলম, দেওয়ানবাজার সাবএরিয়ার মো. রাজিব, রাঙামাটির রুবেল হোসেন, পটিয়ার রাজু শীল, মহেশখালীর নেছার, ফিরিঙ্গিবাজারের নান্টু দাশ, রাঙ্গুনিয়ার সিএনজি অটোরিকশাচালক মো. ইলিয়াস, এনায়েত বাজারের মো. ফয়সাল, রাউজানের মৃদুল দে, ফটিকছড়ির রিয়াজ উদ্দিন, শিবু শীল, মহেশখালীর সিরাজুল মোস্তফা, পতেঙ্গার খাজা আহমদ বলী, হাটহাজারীর মো. মফিজ, কুতুবদিয়ার মো. জিসান, বোয়ালখালীর মো. কাউসার, ফিরিঙ্গিবাজারের মো. যুবরাজ, পাঁচলাইশের মো. ইব্রাহিম, ফটিকছড়ির মো. নূরউদ্দিন, বঙ্গবাড়ী টেকপাড়ার রাজন দাশ, মহেশখালীর সৈয়দ নূর, চাক্তাইয়ের আবু হানিফ বাপ্পি, নিমতলার কামরান মুর্শেদ খান, কুমিল্লার মো. আলম, পটিয়ার মিনহাজুল আবেদীন ও ফিরিঙ্গিবাজারের ছোটন দাশ।
এরপর শুরু হয় চ্যালেঞ্জিং রাউন্ড। এতে জয়ী হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে যান জীবন, কাঞ্চন, বজল, মো. হোসেন, কালাম, সাহাবউদ্দিন, কালু ও শাহজালাল। এদের মধ্যে সেমি ফাইনালে খেলার সুযোগ পান কুমিল্লার শাহজালাল, মহেশখালীর সাহাবউদ্দিন, মো. হোসেন ও চকরিয়ার জীবন।
এর আগে বেলুন উড়িয়ে আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন বলী পান নগদ ২০ হাজার টাকা ও ট্রফি এবং রানারআপ বলী পান নগদ ১৫ হাজার টাকা ও ট্রফি। অন্য বলীদের নগদ ১ হাজার টাকা ও একটি করে ট্রফি দেওয়া হয়।
আসর উপলক্ষে প্রতিবছরের মত এবারও লালদিঘী ও আশেপাশের এলাকায় গত বুধবার থেকে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। রকমারি পণ্য নিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা বিক্রেতারা ইতোমধ্যে বিকিকিনি শুরু করেছেন। ক্রেতাদের আনাগোনায় মধ্যরাত পর্যন্ত লালদীঘি, আন্দরকিল্লা, কোতোয়ালী মোড় ও কেসিদে রোড এলাকায় বিরাজ করছে উত্সবমুখর পরিবেশ। মেলায় কাঠ ও বাঁশের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে ঘর-গৃহস্থালীর আনুষঙ্গিক সকল ধরনের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে বাড়তি ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে শিশুদের রকমারি খেলনা, মুখোশ, বাঁশি ও নারীদের ইমিটেশনের গয়নার দোকানগুলোতে। চটপটি, ফুচকা ও কাবাব ছাড়াও মেলায় পাওয়া যাচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী মুড়ি, মুড়কি, বাতাসা ও নানা ধরনের মৌসুমী ফল।
প্রসঙ্গত, ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের বদরপাতি এলাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার বলীখেলা প্রতিযোগিতার সূচনা করেন। তার মৃত্যুর পর এ প্রতিযোগিতা জব্বারের বলীখেলা নামে পরিচিতি লাভ করে। প্রতি বছর ১২ বৈশাখ নগরীর লালদীঘি ময়দানে এ বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয়।
