যে কারণে গুরুদাসপুরে কমছে ফসলি জমি

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৬:৫৩

নাটোরের গুরুদাসপুরে ধানি জমি নষ্ট করে একের পর এক চলছে পুকুর খনন। প্রায় এক দশক ধরে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সিন্ডিকেট চক্র কৃষকের জমি লিজ নিয়ে পুকুর খনন করছেন। এই সময়ের মধ্যে উপজেলার অন্তত ১০টি বিলের প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর ফসলি জমি কমেছে।

প্রতি বছর আবাদি জমি পুকুরে রূপান্তরিত হলেও এসব পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসন দৃশ্যত কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তবে সিন্ডিকেট চক্রের দাবি উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই এসব পুকুর খনন করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এক দশক আগেও ৩১২ একর আয়তনের হাঁড়িভাঙ্গা বিলে বোরো ৫২০ মেট্রিকটন, রোপা আমন ১১২ মেট্রিকটন ও বোনা আমন ১৭৫ মেট্রিকটন আবাদ হতো। বর্ষাকালে বিলটি তলিয়ে গেলেও সেখানে বোনা আমনের আবাদ হয়। সেই বিলে এখন চলছে পুকুর খননের মহাযজ্ঞ। হাঁড়িভাঙ্গা বিল ছাড়াও চাপিলার কয়েকটি বিল, চাকলের বিল, ধারাবারিষার বিল, হাঁসমারি, মশিন্দা বিলসহ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের সব বিলেই চলছে পুকুর খনন।

২১ জুন প্রকাশিত জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতিমালা ২০০১-এর গেজেটে বলা হয়েছে, কৃষি জমি যতটুকু সম্ভব কৃষি কাজে ব্যবহার করতে হবে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কৃষিজমির প্রকৃতিগত কোনো পরিবর্তন করা যাবে না।

পুকুর খনন সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য রবিউল করিম, চাপিলার রুবেল, সুমন ও মাটি ব্যবসায়ী মইনুলসহ অন্যরা জানান, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তারা পুকুর খনন করছেন।

গুরুদাসপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১১ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পুকুর খননের কারণে উপজেলার প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর ফসলি জমি কমেছে। ২০১১ সালে গুরুদাসপুরে ফসলি জমির পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৬০৯ হেক্টর। ওই সালে কমেছে ৭০ হেক্টর, ২০১২ সালে কমেছে ৮০ হেক্টর, ২০১৩ সালে কমেছে ৯৫, ২০১৪ সালে কমেছে ১০৫, ২০১৫ সালে কমেছে ১২০, ২০১৬ সালে কমেছে ১৩০, ২০১৭ সালে কমেছে ১১৫ হেক্টর এবং ২০১৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০ হেক্টর ফসলি জমি কমেছে।

এভাবেই ফসলী জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. হারুনর রশিদ জানান, এভাবে ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন করায় মারাত্মক ফসল হানি হচ্ছে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নির্বিচারে পুকুর খনন করায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে ফসলি জমি।

হাঁড়িভাঙ্গা বিলের প্রান্তিক চাষি আবুল মিয়া, চাকলের বিলের কৃষক আখের আলীসহ বিভিন্ন বিলের ওপর নির্ভরশীল অনন্ত ২০ জন কৃষক অভিযোগ করেন, পুকুর পাড়গুলো উঁচু হওয়ায় বিলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে অন্যরা চাষাবাদ করতে পারছেন না। অথচ প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসন অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

ইত্তেফাক/ইউবি