নালিতাবাড়ীতে ভাতিজাকে গুলি করে মারলেন ইউপি চেয়ারম্যান!

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ২২:২১

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার যোগানিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবি তার ভাতিজাকে গলায় পিস্তল ঠেকিয়ে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত ইদ্রিস আলী চেয়ারম্যানের প্রতিবেশী এবং বাইটকিয়ামারি গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে। সে একজন নিরীহ কৃষক।

পুলিশ ও নিহতের স্ত্রী দিলরুবা তিন্নি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে সোরহাব আলী ৮/৯ জন শ্রমিক নিয়ে তার জমিতে পাকা বোরো ধান কাটতে যায়। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবির আত্মীয়-স্বজনরা জমিটি বিরোধপূর্ণ দাবি করে ধানকাটতে বাধা প্রদান করে। এসময় সোরহাব আলী শ্রমিকদের নিয়ে বাড়িতে ফিরে এসে কিছুক্ষণ পরে আরো লোকজন নিয়ে ওই        জমিতে পুনরায় ধানকাটতে গেলে চেয়ারম্যানের লোকজন সোরহাব আলী ও তার লোকদের উপর হামলা করে এবং বাড়িঘরেও হামলা করে ভাঙচুর করে। সোরহাব আলীর চাচাতো ভাই ইদ্রিস আলী (৩৫) ওসময় নিজ বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ছিল। সে চেয়ারম্যানের অবৈধ পিস্তলের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে নালিতাবাড়ী হাসপাতালে আনলে ডাক্তার ইদ্রিস আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ভাই মাসুম মিয়া, বড় বোন ময়না বেগম, ভাগিনা হারেজ আলী, রাহুল মিয়া, ওসমান আলী। চেয়ারম্যান হবি পলাতক। ইদ্রিসের লাশ দেখতে শত শত লোক থানায় ভিড় করছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অবৈধ পিস্তল গলায় ঠেকিয়ে ইদ্রিসকে গুলি করা হয়েছে। গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়েছে। আর ঘটনায় চেয়ারম্যানের ভাই-বোনসহ ৫ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। নিহতের মরদেহ থানায় রাখা আছে।