কাপ্তাই লেকে ফেলা হচ্ছে আবর্জনা, কমছে গভীরতা

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৯:৫৫

জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কাপ্তাই লেকের সৃষ্টি হলেও এখানে চাষ হয় প্রচুর মিঠাপানির মাছ। নৌবিহার, বন্যানিয়ন্ত্রণ, কৃষি আবাদসহ আরো বেশকিছু ক্ষেত্রে এই লেকের অবদান উল্লেখযোগ্য। কিন্তু অযত্ন ও অবহেলার কারণে ঐতিহ্যবাহী এই লেক হারাচ্ছে তার সৌন্দর্য। 

লেকের বেশকিছু স্থানে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ঘরবাড়ি। শিল্পকারখানা, খাবার হোটেলসহ ব্যবহার্য ঘরের বর্জ্য ফেলার কারণে লেকের স্বচ্ছ পানি দূষিত ও নোংরা হচ্ছে। বর্জ্য ফেলার অংশগুলো ধীরে ধীরে ভরাট হচ্ছে। কমছে লেকের গভীরতা। সচেতন মহল লেকে ময়লা-আবর্জনা ফেলা রোধসহ লেকের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, এই লেককে ঘিরে কাপ্তাই উপজেলায় গড়ে উঠেছে কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটি বাংলাদেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই কেন্দ্র থেকে সরকার প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা আয় করছে। এছাড়াও কাপ্তাই লেককে ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে মৎস্য আহরণ ও অবতরণ কেন্দ্র। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের মাধ্যমে পরিচালিত এই কেন্দ্র থেকেও সরকার বিপুল রাজস্ব আয় করে থাকে সরকার। কিন্তু ময়লা-আবর্জনা ফেলায় ও লেকের গভীরতা কমায় বর্তমানে গুরুত্ব হারাচ্ছে কাপ্তাই লেক। বর্তমানে লেকে পানি কম থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনও কম হচ্ছে। কাপ্তাই লেক বোটচালক সমিতির সভাপতি মো. ইদ্রিস মিয়া বলেন, রাঙ্গামাটি জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে প্রায় সাত উপজেলার বেশির ভাগ ময়লা এই লেকে ফেলা হচ্ছে। লেকসংলগ্ন ৩০টি হাটবাজারের ময়লাও কাপ্তাই লেকে ফেলা হচ্ছে। কাপ্তাই মানবাধিকার কমিশনের মহিলা সম্পাদিকা নুর বেগম মিতা বলেন, ১৯৬০ সালে কাপ্তাইয়ে বাঁধ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল সম্ভাবনাময় বহুমুখী এই কাপ্তাই লেক। কিন্তু লেক পরিষ্কার রাখার যে প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তা উপেক্ষিতই থেকে গেছে। ময়লা-আবর্জনা ফেলা ছাড়াও পাহাড় ধসে লেকের তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। কিন্তু এ পর্যন্ত কখনো লেক ড্রেজিং করা হয়নি।

কাপ্তাই লেক পরিচালনা কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, লেকে পানি কম থাকায় কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সীমিত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন কাপ্তাই শাখার ব্যবস্থাপক মাসুদ আলম বলেন, ময়লা-আবর্জনায় লেকের গভীরতা কমে যাওয়ায় কাপ্তাই লেকে পানি ধারণক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। পানি কম থাকায় মাছের উৎপাদন এবং প্রজননও কমে গেছে। একই সঙ্গে নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। লেককে বাঁচাতে হলে লেকে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ রাখতে হবে। একই সঙ্গে ড্রেজিং করে পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। এ ব্যাপারে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এ টি এম আব্দুজ্জাহের কাপ্তাই লেকে বিভিন্নভাবে বিপুল পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে বলে স্বীকার করে বলেন, জেলা ও উপজেলার প্রশাসিনকভাবে সংশ্লিষ্টদের সচেতন করা গেলে এবং বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্তসংখ্যক ডাস্টবিন তৈরি করা গেলে মানুষ ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র ফেলবে না।

ইত্তেফাক/ আরাফাত