ইডেনের ছাত্রী মেঘার আত্মহত্যা, পরিবারসহ প্রেমিক পলাতক

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ২২:২২

ইডেন কলেজের ছাত্রী সায়মা কালাম মেঘা (২১) আত্মহত্যার ঘটনায় প্রেমিক মাহিবি হাসানের প্ররোচনা রয়েছে বলে অপমৃত্যুর মামলায় দাবি করেছে মেঘার চাচা আবুল বাশার। ঘটনার পর থেকে প্রেমিক মাহিবি ও তার মা সেলিনা বেগম ঝালকাঠির বাসায় তালা লাগিয়ে পলাতক রয়েছেন। গত রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকার কাঁঠালবাগানের ফ্রি স্কুল স্ট্রিট সড়কের ৭৪/১ নম্বর বাসার চতুর্থ তলার একটি কক্ষ থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মেঘার লাশ উদ্ধার করে কলাবাগান থানা পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার মেঘার বাবা আবুল কালাম আজাদ ঝালকাঠির সার্কিট হাউজ সংলগ্ন তার বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন। এসময় মেঘার মা রুবিনা আজাদ ও চাচা আবুল বাসার মেঘার মৃত্যুর জন্য মাহিবি ও তার মা সেলিনা বেগমের তদন্ত পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মেঘার মা রুবিনা বলেন, ২০১৭ সালে ইডেন কলেজে ভার্তি হয় মেঘা। ৩ বছর পূর্বে ঝালকাঠির পূর্ব চাঁদকাঠি এলাকার মাহিবির সঙ্গে মেঘার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মৃত নফিজুর রহামানের পুত্র বরিশাল হাতেম আলী কলেজের অনার্স ফাইনাল বর্ষের ছাত্র মাহিবি। এর আগে দুপক্ষের পারিবারিক উদ্যোগে মেঘাকে বিয়ের জন্য দুবার কাবিন পিছিয়ে দেয় মাহিবি। মেঘার মা আরো জানান, শবেবরাতের দিন গোপনে মেঘা ও মাহিবি কাবিনের দিন চূড়ান্ত করে। কিন্তু মাহিবি ওইদিনও বিয়ে করতে ঢাকায় না গিয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও কল দিয়ে অপমান করে মেঘাকে। এটা সহ্য করতে না পেরে ভিডিও কল চলাকালীন ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে মেঘা। মাহিবিই মেঘার মাকে ফোনে মেঘার আত্মহত্যার কথা জানায়। তিনি মেঘার বান্ধবীদের জানালে তারা মেঘাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মাহিবির মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া মাহিবির পূর্ব চাঁদকাঠির বাসায় গিয়ে তালাবদ্ধ দেখে জানতে চাইলে প্রতিবেশীরা জানায় তারা শবেবরাতের পরদিন থেকেই বাসায় তালা দিয়ে চলে যায়।