অকারণেই ৩৫ লাখ টাকার কালভার্ট?

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৭:৪৪

নাগেশ্বরীতে কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট করে চলছে বাড়ি নির্মাণ কাজ। এতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে অকেজো পড়ে আছে সরকারের ৩৫ লাখ টাকায় তৈরি বক্স কালভার্ট।

এ বিষয়ে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, ‘২০১৭ সালে ওই ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের লুছনি গ্রামে কচাকাটা- মুড়িয়ারহাট সড়কে একটি বক্স কালভার্ট নির্মাণে নকশা প্রস্তুত করা হয়। ২০১৮ সালে সেটির টেন্ডার হয়। নকশা করার সময় ওই জায়গায় কোনো ঘর-বাড়ি ছিল না।’

উপজেলা প্রকৌশল অফিস জানায়, ২০১৯ সালের প্রথম দিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দে ৯ মিটার (২৭ফুট) দৈর্ঘ্যের ৪ অনুপাত ৪ ধরনের এ বক্স কালভার্টটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। গত বছর (২০২১) জুন মাসে এর নির্মাণ কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। জুনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হয়।

নির্মাণ কাজ শুরুর আগেই ওই কালভার্টের উত্তর দিকের জমিতে মাটি ভরাট করে বাড়ি করেন ফজর আলী, নাসির উদ্দিন ও লালচান মিয়া। স্থানীয় আব্দুর রহিম পনির মিয়া বলেন, ‘তখন আমরা কালভার্টটি পূর্ব দিকে সরিয়ে নিতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা শোনেনি। সেখানেই কালভার্ট নির্মাণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই সময় তারা পানি নিষ্কাশনের জন্য পাশের জমি দিয়ে সরু একটি নালা কালভার্টটির মুখে সংযোগ দেয়। ইতোমধ্যে ওই জমির মালিক আব্দুল খালেক বাড়ি করার জন্য সেই নালাও বন্ধ করে দিয়ে মাটি ফেলে জমি ভরাট করেছেন। ফলে সেখান দিয়ে একফোঁটা পানি গড়ানোরও উপায় নেই।’ 

এ বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য আলমাস উদ্দিন বলেন, ‘এই কালভার্ট জনগণের কোনো কাজে লাগবে না। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে সরকারের টাকা নষ্ট হয়েছে।’

এছাড়া, উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘২০২০ সালে তিনি নাগেশ্বরীতে যোগদান করার আগেই কালভার্টটির ভিতের কাজ শেষ হয়। ফলে সেখানেই কাজ শেষ করতে হয়েছে।’ 

কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী ওয়সিম আতাহার ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। খাল ভরাট করে কালভার্টটির পানি নিষ্কাষনের পথ বন্ধ করার বন্যায় ওই পরিবারগুলোকেই ভোগান্তিতে পড়তে হবে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন