বান্দরবানে গত বুধবার গোলাগুলিতে সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিবুর রহমানসহ চার জন নিহত হওয়ার পর পাহাড়ের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। পাহাড়ি গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। সন্ত্রাসীদের ধরতে সম্ভাব্য এলাকাগুলোতে যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান অব্যাহত আছে। পাড়াগুলোতে সেনা টহলও বাড়ানো হয়েছে।
গত শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম অঞ্চলের এরিয়া কমান্ডার (জিওসি) মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন, বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জিয়াউল হকসহ উর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা রুমা সেনানিবাসে পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।
এদিকে গোলাগুলিতে যে তিন জন অস্ত্রধারী পাহাড়ি যুবক নিহত হন তাদের কোনো পরিচয় না পাওয়ায় এবং মরদেহ কেউ নিতে না আসায় শুক্রবার বান্দরবান সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে তাদের শহরের মারমা শ্মশানে সত্কার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে নিহত তিন জন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মূল অংশের সশস্ত্র ক্যাডার।
তবে জনসংহতি সমিতির দাবি তাদের কোনো সশস্ত্র ক্যাডার শাখা নেই। নিহতদের তারা চেনে না।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের আহ্বান: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি গণমাধ্যমে বলেছেন, সেনাবাহিনীর ওপর হামলাকারীরা যাদের সমর্থকই হোক না কেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি-জেএসএস এর দায় এড়াতে পারে না। বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ের বথি ত্রিপুরা পাড়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অবিলম্বে এ ধরনের অপতত্পরতার পেছনে যে বা যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামকে সন্ত্রাসমুক্ত করার জন্য অল্প সময়ের মধ্যে বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা দরকার বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সেনা হত্যায় বিক্ষোভ, সন্তু লারমার বিচার দাবি: সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হত্যার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার বিকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে বান্দরবান প্রেসক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন তারু মিয়ার সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী মুজিবুর রহমান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক রুহুল আমিন প্রমুখ। বক্তারা বলেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাতিল করতে হবে। পাহাড়ে অধিক হারে সেনা ক্যাম্প ও সেনাবাহিনী বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। বক্তারা জেএসএস সভাপতি সন্তু লারমার জাতীয় পতাকা ও নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে তাকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
খাগড়াছড়িতে অভিযান: দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার দুর্গম জারুলছড়িতে সন্ত্রাসীদের আস্তানায় হানা দিয়েছে সেনাবাহিনী। শুক্রবার ভোরে এই অভিযানে সন্ত্রাসীদের চারটি ব্যারাক, দুটি ডিউটি পোস্ট এবং একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের স্টাফ অফিসার (জিটুআই) মেজর মো. জাহিদ হাসান।
