ফেনীতে শিশু-কিশোররা ডন গাম বা ড্যান্ডির নেশায় আসক্ত হচ্ছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশই পথশিশু। এখন স্কুল-কলেজের শিশু-কিশোররাও এ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। তারা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা প্লাস্টিক, লোহা, পলিথিন সংগ্রহ করে ভাঙারি, স্ক্র্যাব দোকানে বিক্রি করে নেশার টাকা জোগাড় করে।
চিকিৎসকরা বলছেন, এ ভয়ংকর নেশার কারণে শিশুদের মধ্যে অনেকের শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব দেখা দিতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, লিভার ডিজিজ, কিডনি ডিজিজ এবং শিশুরা মানসিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সমাজসেবক শহীদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন স্কুল, কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা শহর ও শহরতলির অলিগলিতে আড্ডা ও নেশায় মেতে উঠেছে। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত পথশিশু ও কিশোররা। তারা ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, আইসের পাশাপাশি নতুন হালে ডন গাম (সলিউশন গাম) ও ফেভিকন গামের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে।
নেশাগ্রস্তরা কয়েক জন শিশু জানায়, এ গামটি হার্ডওয়্যার দোকান, মোবাইল দোকান, জুতার কারখানা, ফার্নিচার কারখানা, ফোমের দোকান, প্লাস্টিক কারখানা, গাড়ির গ্যারেজগুলোতে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। তারা সেখান থেকে এসব সংগ্রহ করে। পরে পলিথিনের ভেতরে নিয়ে তার ভিতরে নাক-মুখ ঢুকিয়ে গামের ঘ্রাণ মুখ ও নাক দিয়ে টানতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যে নেশায় বুঁদ হয়ে পড়ে। তখন চোখে বিভিন্ন তারাবাতি দেখে নিজেকে খুব আনন্দ, উত্ফুল্ল ও অন্য জগতের মানুষ হিসেবে মনে করে।
এ ব্যাপারে ফেনী সদর হাসপাতালের প্রাক্তন সুপার ডা. সরোয়ান জাহান বলেন, কোমলমতি শিশু-কিশোর ও যুবকরা না বুঝে নিঃশ্বাসের সঙ্গে এ বিষ গ্রহণ করছে। এতে অল্পদিনের মধ্যে তাদের কিডনি, লাঞ্চ, ফুসফুস, লিভার দ্রুত নষ্ট হয়ে মৃতু্যর মুখে পতিত হবে। তাদের এ পথ থেকে দ্রুত ফিরিয়ে আনতে হবে। গামে আসক্ত হয়ে পড়ার বিষয়ে ফেনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন জানান, প্রতিটি হার্ডওয়্যার দোকানে এ গামটি ছোট কৌটা ৫০ টাকা এবং বড় কৌটা ১৩০ টাকায় পাওয়া যায়। বিষয়টি ফেনী পুলিশ সুপারের দৃষ্টিতে এসেছে। তিনি জেলার ছয় উপজেলার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকায় নেশাগ্রস্তদের আটক করার জন্য বিশেষ পুলিশ টিম গঠন করার এবং এলাকাগুলোতে অভিযান পরিচালনার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, ফেনীতে পুলিশের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। তারা শহরের মাস্টার পাড়া, ডাক্তার পাড়া, পাঠানবাড়ী রোড, নাজির রোড, খাজুরিয়ার আজমিরি বেগম সড়কের গলি, পশ্চিম উকিল পাড়া, পূর্ব উকিল পাড়া, রামপুর সওদাগর পাড়া, মধুপুর এলাকা, মহিপাল, পাঁচগাছিয়া এলাকা, বিরিঞ্চি, সোনাপুর, সহদেবপুর এলাকাগুলোতে কঠোর নজরদারিতে রেখে অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছে। এছাড়া হার্ডওয়্যার দোকানদারদের প্রেসক্রিপশন ছাড়া সাধারণ শিশু-কিশোর ও যুবকদের কাছে বিক্রি করার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে।
