মির্জাপুরে তীব্র যানজটে নাকাল পৌরবাসী

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৩:৪৮

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে উপজেলা সদরে রাস্তায় বেড়েছে অবৈধ অটোরিকশার দাপট। পাশাপাশি যত্রতত্র রাস্তা দখল করে মোটর সাইকেল পার্কিং করায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র যানজটে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে পৌরবাসীকে। এছাড়াও রয়েছে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ব। পৌরসভা ও প্রশাসনের চোখের সামনে দীর্ঘ দিন ধরে অটো রিকসার যানজনট এবং প্রকাশ্যে চাঁদা উত্তোলন হলেও যেন দেখার কেউ নেই।

রবিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা সদরের পৌরসভার বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে দেখা গেছে ব্যাটারি চালিত অবৈধ অটোরিকশার দখলে পুরো রাস্তাঘাট। 

পৌরসভা সূত্র জানায়, মির্জাপুর পৌরসভার রাস্তায় ৮শ অটোরিকশা চলচালের অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু রাস্তায় চলাচল করছে তিন থেকে চারগুন বেশি অটোরিকশা। এই সুযোগে স্থানীয় একটি চক্রের যোগসাজসে রিকসা প্রতি মাসে চাঁদা উত্তোলন হচ্ছে ৩০০শ -৪০০শ টাকা। এ হিসাবে মাসে চাঁদা তোলা হচ্ছে তিন থেকে চার লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, এই অবৈধ চাঁদা নিজেদের মধ্যে ভাগভাটোয়ারা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে সৈয়দ ওয়াহিদ ইকবাল, শামসুল ইসলাম, মোবারক হোসেন, ও আশরাফ আহদে বলেন,  এসব অটোচালকদের নেই কোন প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স। নিয়ম কানুন না মেনেই রাস্তায় অটোরিকশা চলাচল করায় বাড়ছে দুর্ঘটনার প্রবণতা। সেই সঙ্গে তীব্র যানজটে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে পৌরবাসীসহ চলাচলকারী যাত্রীদের। পৌরসভার বংশাই রোড, বাওয়ার রোড, থানা রোড, কলেজ রোড, কালিবাড়ি রোড, কুমুদিনী হাসপাতাল রোড, পুরাতন বাস স্টেশন রোডসহ প্রতিটি রাস্তায় অবৈধ অটোরিকশার দাপটে ঘণ্টার পর যানজটে দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। নাম প্রকার না করার শর্তে একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, পৌরসভার রাস্তায় পুলিশের বিধি নিষেধ এবং প্রশাসনের নজরদারী অমান্য করে ব্যবসায়ীরা দিনের বেলায় মালবাহী ট্রাক লোড-আনলোড করায় যানজট আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

রাস্তার উপর অবৈধ মোটর সাইকেল পার্কিং।

অপর দিকে অবৈধ অটোরিকশার সঙ্গে বাড়তি যোগ হয়েছে রাস্তার উপর অবৈধ মোটর সাইকেল পার্কিং। রাস্তার উপর অবৈধ মোটর সাইকেল পার্কিং করে রাখায় প্রতি নিয়তই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। প্রশাসন ও পৌরসভার কর্মকর্তাদের চোখের সামনে অবৈধ পার্কিং হলেও এদের বিরুদ্ধে নেই শাস্তির ব্যবস্থা। বিষয়টির দিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পৌরবাসিসহ ভুক্তভোগীরা জোর দাবী জানিয়েছেন।

মির্জাপুর পৌরসভার কর আদায়কারী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, পৌরসভার নয় ওয়ার্ডের রাস্তায় চলাচলের জন্য ৮শ অটোরিকশার চালককে লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। পৌরসভার নিয়মানুযায়ী নতুন অটোরিকশা ও চালকের লাইসেন্সসহ ২০৬০ টাকা ফি এবং নবায়ন ফি বাবদ ১০৬০ টাকার বিনিময়ে পৌরসভা লাইসেন্স দিচ্ছে। ৮শ রিকসার বাইরে তাদের লাইসেন্স দেওয়ার কোন সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছে ৮০০শ রিকসার বাইরে যেগুলো অটো রিকসা চলাচল করছে এগুলো অবৈধ। এলাকার কিছু লোকজনকে ম্যানেজ করে চাঁদা দিয়ে এগুলো চলাচল করছে।

এ ব্যাপারে আজ শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পুরাতন বাস স্টেশনে অবৈধ অটো রিকসা থেকে চাঁদা উত্তোলনকারী দুই ব্যক্তির সঙ্গে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, একটি রিকসায় প্রতিদিন ১০ টাকা হারে চাঁদা নেওয়া হয় রাস্তা যানজট মুক্ত রাখার জন্য। এই টাকা দিয়ে তাদের মাসিক বেতন ও নেতাসহ বিভিন্ন দপ্তরে টাকা নেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে পৌরসভার মেয়র সালমা আক্তার শিমুল বলেন, পৌরসভার অধীনে ৮শ অটোরিকশা রয়েছে। কিন্তু অবৈধ ভাবে চলাচল করছে তিন থেকে চারগুন । নানা প্রতিকূলতার কারণে অবৈধ রিকসা চলাচল বন্ধ করা যাচ্ছে না। প্রশাসনের সহযোগিতায় অবৈধ অটোরিকশা চলচাল বন্ধ করার জন্য অভিযান শুরু হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলম চাঁদ বলেন, পৌরসভার রাস্তায় যানজট দূরীকরণ এবং অবৈধ ভাবে যারা চাঁদা উত্তোলন করছে তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, পৌরসভায় রিকসার লাইসেন্স প্রদান করেন মেয়র। পৌরসভার রাস্তায় ব্যাটারি চারিত অবৈধ রিকসা ভ্যান চলাচল মারাত্মক সমস্যা ও যানজটের অন্যতম কারণ হয়েছে দাঁড়িয়েছে। যানজট মুক্ত শহর গড়ার জন্য এমপি, পৌর মেয়র, ব্যবসায়ী ও  জনপ্রতিধিদের সমন্বয়ে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ইত্তেফাক/ আরাফাত