৯২ বছর বয়সে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর। কোভিড পরবর্তী জটিলতার কারণে আজ রবিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন তিনি। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বীহীন এক সঙ্গীতসম্রাজ্ঞী হয়ে! গান-বাজনার পাশাপাশি লতা মঙ্গেশকর ছিলেন ক্রিকেট ভক্ত। তাই তো ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় ক্রিকেটারদের পুরস্কৃত করতে বিসিসিআই (BCCI) এর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর।
বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রিকেট সংস্থা হলেও একটা সময় প্রবল আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে চলছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয়ী কপিল দেবের দলকে সংবর্ধনা দেওয়ার মত পয়সা ছিল না ভারতের ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের কাছে। এই অবস্থায় এগিয়ে এসেছিলেন কিংবদন্তী শিল্পী লতা মঙ্গেশকর।
সবাইকে চমকে দিয়ে ১৯৮৩ বিশ্বকাপ জয় করেছিল কপিল দেবের ভারত। সে সময় দলের সবার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে তৎকালীন বোর্ড। কিন্তু পুরস্কার দূরের কথা, পারিশ্রমিকই ঠিকমতো দেয়ার মতো অর্থ ছিল না বিসিসিআইয়ের কাছে। এমতাবস্থায় বোর্ডের পাশে দাঁড়ান লতা মঙ্গেশকর। মহান গায়িকার এমন বদান্যতায় মুগ্ধ হয়েছিল ক্রিকেট বোর্ড। অঙ্গীকার করে, আজীবন লতার ঋণ শোধ করে যাবে তারা।
তৎকালীন বোর্ড কর্তা রাজসিং দুঙ্গারপুরের অনুরোধে একটি কনসার্টের আয়োজন করেন লতা। সেই কনসার্ট থেকে প্রচুর টাকা আয় করে বিসিসিআই। এর মাঝে কয়েক লাখ টাকা বিশ্বকাপজয়ী দলের ক্রিকেটারদের পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়। বাকি টাকা দিল্লির তৎকালীন স্টেডিয়াম ফিরোজ শাহ কোটলার উন্নয়নের জন্য খরচ করা হয়।
ভারতের ক্রিকেট বোর্ড লতা মঙ্গেশকরের অবদান ভোলেনি সেই কারণে দেশের যে কোন স্টেডিয়ামে ভারতীয় দলের ম্যাচ হলে এখনও একটি সিট কিংবদন্তি গায়িকার জন্যই বরাদ্দ করা থাকে। রবিবার সকালে তাই কিংবদন্তী গায়িকার প্রয়াণের খবরে শোকের ছায়া ভারতের ক্রিকেট মহলে।
