লতাজি বলেছিলেন, ‘ব্যাটা ওপরে বসো, পাগলি হ্যায়’

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৫:২৯

ভারতীয় উপমহাদেশের সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর আর নেই। টানা প্রায় চার সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার সকাল সোয়া আটটার দিকে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। কিংবদন্তির মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতি অঙ্গনে। বাংলাদেশেও তার ব্যতিক্রম নয়।

লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে আড্ডা দিতে তার সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিলো বাংলাদেশের কণ্ঠশিল্পী আখিঁ আলমগীরের। ২০১৭ সালের লতার সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগ হয়। লতার মৃত্যুর খবরে শুনে শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছেন তিনি।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আঁখি বলেন, ‘দুঃসংবাদটা শোনার পর আমি বাকরুদ্ধ, থমকে আছি। ২০১৭ সালের মার্চে দেখা হয় লতাজির সঙ্গে। উনার সঙ্গে দেখা হওয়ার সব স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে উঠছে। তার সঙ্গে দেখা হওয়াটা আমার জীবনে সবচেয়ে বড় পাওয়া।’

আখিঁ আলমগীর ও লতা মঙ্গেশকর। ছবি: ফেসবুক

লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে দেখা করতে তখন তিনি রুনা লায়লার সঙ্গে ভারত গিয়েছিলেন।

সে সময়কার স্মৃতি স্মরণ করে আঁখি বলেন, ‘আমি খুব ভালো হিন্দি বলতে পারি। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, তাকে কাছে পেয়ে কোনো কথাই বলতে পারছিলাম না। আমার চোখ দিয়ে অঝরে পানি ঝরছে। আমি তার পায়ের কাছে গিয়ে বসে ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন, ‘ব্যাটা ওপরে বসো, পাগলি হ্যায়’। আমি বললাম সরি, কান্না আটকাতে পারছি না। তুমি বুঝতে পারছ না তোমার ভালোবাসা পুরো রুমে ঘুরছে। এসব ভালোবাসা অন্যরকম।’

এই শিল্পী আরো বলেন, ‘হাজার বছরেও তার মতো কোনো শিল্পী আসবে না। উনি দেবী! আমি একজন দেবীর দর্শন পেয়েছিলাম। উনার তুলতুলে নরম হাত ধরে অনেকক্ষণ পায়ের কাছে বসেছিলাম। উনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেছেন।’

রুনা লায়লা, লতা মঙ্গেশকর ও আখিঁ আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ইন্দোরের  ১৯২৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন লতা মঙ্গেশকর। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ‘মজবুর’ চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দেওয়ার মাধ্যমে প্লেব্যাকে হাতেখড়ি হয় তার। ক্যারিয়ারে লতা মঙ্গেশকর ৩৬টি ভাষায় প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন। ১৯৭৪ সালে সবচেয়ে বেশি গানের শিল্পী হিসেবে গিনেস বুকে স্থান পান তিনি।   

পদ্মভূষণ, দাদাসাহেব ফালকে অ্যাওয়ার্ড, ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা, পদ্মবিভূষণ, এনটিআর জাতীয় পুরস্কার এবং ভারতের সর্বোচ্চ সম্মাননা ভারতরত্ন পেয়েছেন তিনি। এছাড়া ফ্রান্সের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘অফিসার দে লা দি’ অনারসহ দেশি-বিদেশি অসংখ্য পুরস্কার-সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এই কিংবদন্তি।

ইত্তেফাক/বিএএফ