দীঘিনালায় তামাকের আগ্রাসনে হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৭:৩৮

দীঘিনালায় কয়েক বছরে তামাক চাষ বেড়েছে। এতে উপজেলায় ধান চাষের পরিমাণ দিনদিন কমছে। একই সঙ্গে তামাক চাষে ক্ষতিকারক ওষুধ ব্যবহারে চাষিদের চর্মরোগ, ক্যান্সার, শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অভিযোগ উঠেছে, তামাক চাষের জন্য প্রান্তিক কৃষকদের বিভিন্ন সিগারেট কোম্পানি অগ্রিম সার, টাকাসহ নানাভাবে প্রলোভন দিচ্ছে। ফলে কৃষকরা অন্য ফসলের পরিবর্তে তামাক চাষে ঝুঁকছে।

দীঘিনালার ১ নম্বর মেরুং, নারিকেল বাগান, কবাখালী, বেতছড়ি, মধ্য বোয়ালখালী, হাচিনসনপুর, বড়াদম, মাইনি নদীর দুপাশ, তারাবুনিয়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় শত শত বিঘা জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে। এসব জমিতে এক সময় সবজি চাষ হতো। এখন  শত শত বিঘা জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক তামাক চাষি জানান, এক একর জমি ধান চাষ করলে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লাভ হয়। আর এক একর জমি তামাক চাষ করলে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভ হয়।অন্যদিকে বিভিন্ন সিগারেট কোম্পানি অগ্রিম টাকা ও বিভিন্ন কীটনাশক দিচ্ছে। এজন্য কৃষকরা ধান কিংবা সবজি চাষ না করে তামাক চাষে ঝুঁকছেন। 

সবজি চাষি অনিকা চাকমা  জানান, দীর্ঘদিন ধরে দীঘিনালার মাইনি নদীর তীরবর্তী এলাকায় শীত মৌসুমে সবজি চাষ হতো। দেশি-বিদেশি তামাক কোম্পানি চাষিদের সবজির পরিবর্তে তামাক চাষের উদ্বুদ্ধ করছে। এখন মাইনি নদীর তীরবর্তী এলাকায় শত শত একর জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে।

শিক্ষক কামিনী চাকমা জানান, দীঘিনালার লারমা স্কয়ারে বছর কয়েক আগে স্বল্প দামে নানা ধরনের সবজি পাওয়া যেত। কিন্তু কয়েক বছরে দীঘিনালার বিভিন্ন এলাকায় তামাক চাষের কারণে বিভিন্ন সবজির দাম অনেক বেশি।

দীঘিনালা  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ  নুরে আলম সিদ্দিকি জানান, দীঘিনালায় প্রায় ৪২০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে। কিন্তু কৃষকদের নানাভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে তামাক চাষের পরিবর্তে ভুট্টা কিংবা সবজি চাষ করতে। কিন্তু  অধিক লাভের আশায় কৃষকরা প্রতিবছর তামাক চাষে ঝুঁকছে। তবে আশা করছি- ভবিষ্যতে তামাক চাষ কমে আসবে।

দীঘিনালা উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মেদ কাশেম জানান, ইদানিং দীঘিনালায় তামাক চাষের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। তামাক প্রক্রিয়াজাত করার জন্য অনেক চুল্লি তৈরি হয়। এসব চুল্লি মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

খাগড়াছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক  আবু দাউদ জানান, তামাক চাষ বন্ধে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে এটি আরও বাড়বে।

দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. তনয় তালুকদার জানান, তামাক চাষে ক্ষতিকারক ওষুধ ব্যবহারে চাষিদের চর্মরোগ, ক্যান্সার, শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক সফি উদ্দীন জানান, তামাক চাষ বন্ধে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চাষিদের ভুট্টা চাষের  প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।

 

 

 

ইত্তেফাক/ইউবি