ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত বিভাগ পরিবর্তনের ইউনিট হিসেবে পরিচিত 'ঘ' ইউনিট আর থাকছে না। 'খ' ইউনিটের অধীনেই ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে বিভাগ পরিবর্তন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা৷ এছাড়া আসন সংখ্যা কসানোর জন্য গত ৫ জানুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির এক সুপারিশ বিবেচনায় নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউনিট কমানোর সিদ্ধান্তের বিষয়টিতে না জানালেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্ণ সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ৪টি ইউনিটের (ক, খ, গ, চ) অধীনে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ইউনিট পরিবর্তনের নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ডিনস সাব কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এ বিষয়ে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবদুল বাছিরকে প্রধান করে একটি সাব-কমিটি করা হয়েছে। অধ্যাপক বাছির জানান, আগে ঢাবিতে বিভাগ পরিবর্তনের জন্য সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে যে ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো তা ২০২১-২২ সেশনে আর থাকবে না। তার পরিবর্তে বিভাগ পরিবর্তনের জন্য সায়েন্স ও কমার্সের শিক্ষার্থীরা কলা অনুষদের অধীনে অর্থাৎ খ-ইউনিট ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করবে। সেখানে অন্য বিভাগ থেকে আসা শিক্ষার্থীরা কীভাবে আসন পাবে সে বিষয়ে নীতিমালা করতে বলা হয়েছে। তার জন্য আমাকে প্রধান করে একটি সাব কমিটি করা হয়েছে।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, এ বিষয়ে ডিন কমিটিকে নীতিমালা তৈরি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের কোনও নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়নি। তারা নীতিমালা প্রণয়ন করে ডিন'স মিটিংয়ে উপস্থাপন করবেন বলে তিনি জানান।
কমছে আসন: এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে আসন সংখ্যা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ডিনস কমিটির বিশেষ সভার সুপারিশসমূহ পর্যালোচনা করা হয় এবং ভর্তির যৌক্তিক আসন সংখ্যা নির্ধারণ বিষয়ে সুপারিশ প্রণীত হয়। এই সুপারিশ অনুমোদনের জন্য পরবর্তী একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় পেশ করা হবে। আগামী ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে পুনঃনির্ধারিত আসন সংখ্যা অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
জানা যায়, আসন সংখ্যা পুনর্নির্ধারণের জন্য গত ৫ জানুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটি একটি সুপারিশ করে। ওই সুপারিশ প্রতিবেদন আকারে সাধারণ ভর্তি কমিটি, একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করা হবে। ডিনস কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলা অনুষদে ১৭টি বিভাগে শিক্ষার্থী আসন রয়েছে ১ হাজার ৮৭৫টি। তার মধ্যে বাংলায় ১৩২ থেকে ১২০, ইংরেজিতে ১৫০ থেকে ১২০, আরবিতে ১৫০ থেকে ১০০, ফারসি ভাষা ও সাহিত্যে ১০০ থেকে ৭৫, উর্দুতে ১১০ থেকে ৭০, পালি ও বুড্ডিস্ট স্টাডিজে ৯০ থেকে ৫০, ইতিহাসে ১৩০ থেকে ১১০, দর্শনে ১৭০ থেকে ১২০, ইসলামিক স্টাডিজে ১৮৫ থেকে ১০০, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে ১৬০ থেকে ১১০, তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনায় ৭৫ থেকে ৬৫, ভাষাবিজ্ঞানে ৯০ থেকে ৭০, সংগীতে ৮০ থেকে ৬০, বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতিতে ১০০ থেকে ৬০ ও নৃত্যকলা বিভাগে শিক্ষার্থী আসন ৩৫ থেকে কমিয়ে ৩০টি নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
আর বাকি থাকা বিভাগ থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজে আসন সংখ্যা ১৮ থেকে বাড়িয়ে ২৫ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। ডিনস কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে কলা অনুষদে আসন সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ১ হাজার ৩৬০। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ম্যানেজমেন্ট, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস, মার্কেটিং ও ফাইন্যান্স—এ চারটি বিভাগের প্রতিটিতেই আসন সংখ্যা ১৮০ থেকে কমিয়ে ১৫০ নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। আর ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ও ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট—এ তিন বিভাগের প্রতিটিতে ১১৫ থেকে কমিয়ে ১০০ করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের আসন ১৫০ থেকে কমিয়ে ১০০ করার সুপারিশ এসেছে। অন্যদিকে বাকি থাকা অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগে ৩৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হচ্ছে।
ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে বর্তমানে আসন রয়েছে ১ হাজার ২৫০টি। ডিনস কমিটির সুপারিশ আমলে নেয়া হলে তা কমে দাঁড়াবে ১ হাজার ৫০। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বিভাগগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ২০০ থেকে ১৫০, আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ১০০ থেকে ৮০, সমাজবিজ্ঞানে ১৮৫ থেকে ১৫০, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় ৬৬ থেকে ৬০, লোকপ্রশাসনে ১১০ থেকে ৯০, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়নে ৬০ থেকে ৪০, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজে ৪৫ থেকে ৪০, ক্রিমিনোলজিতে ৬০ থেকে ৫০, কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারসে ৪০ থেকে ৩০ ও জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগে শিক্ষার্থী আসন ৬০ থেকে কমিয়ে ৫০ করার কথা বলা হয়েছে।
আসন বাড়ানোর জন্য সুপারিশ করা বিভাগগুলোর মধ্যে অর্থনীতিতে ১২৮ থেকে ১৩০, পপুলেশন সায়েন্সেসে ২৫ থেকে ৪০ ও ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে ২৮ থেকে বাড়িয়ে ৪০ করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া নৃবিজ্ঞান, টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি ও প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন স্টাডিজে শিক্ষার্থী আসন অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান অনুষদে পাঁচটি বিভাগের মধ্যে চারটিতেই আসন অপরিবর্তিত থাকছে। শুধু পরিসংখ্যান বিভাগের আসন ৮৮ থেকে বাড়িয়ে ৯০ করার সুপারিশ করা হয়েছে। জীববিজ্ঞান অনুষদে আটটি বিভাগের মধ্যে মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশে ১২০ থেকে ১০০, উদ্ভিদ বিজ্ঞানে ৭৫ থেকে ৭০, প্রাণিবিদ্যায় ১০০ থেকে ৮০ ও মনোবিজ্ঞানে ১৩০ থেকে কমিয়ে ৮০ করার কথা বলা হয়েছে। জিন প্রকৌশল ও জীব প্রযুক্তি বিভাগে আসন সংখ্যা ২০ থেকে বাড়িয়ে ২৫ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া বাকি থাকা প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান, অণুজীব ও মৎস্য বিজ্ঞান—এ তিন বিভাগে শিক্ষার্থী আসন অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদে পাঁচটি বিভাগের মধ্যে তিনটিতে বাড়ছে, একটিতে কমছে ও অন্য একটিতে অপরিবর্তিত থাকছে। এর মধ্যে সমুদ্র বিজ্ঞানে ২৫ থেকে ৪০, দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনায় ৩০ থেকে ৪০ ও আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগে ২০ থেকে বাড়িয়ে ২৫টি করার কথা বলা হয়েছে। আর ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে ১২০ থেকে কমিয়ে ৮০ নির্ধারণ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ভূতত্ত্ব বিভাগে শিক্ষার্থী আসন অপরিবর্তিত থাকছে।
ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদে পাঁচটি বিভাগের মধ্যে কোনোটিতেই শিক্ষার্থী আসন কমানোর সুপারিশ আনা হয়নি। নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২৫ থেকে ৩০ ও রোবোটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ২০ থেকে ২৫ নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। বাকি তিনটি বিভাগে আসন অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। চারুকলা অনুষদের আটটি বিভাগের সাতটিতেই আসন সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকছে। শুধু অংকন ও চিত্রায়ণ বিভাগে ৩০ থেকে কমিয়ে ২৫ করার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া ফার্মেসিতে আসন সংখ্যা ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ ও আইনে ১৩০ থেকে কমিয়ে ১১০ নির্ধারণ করার সুপারিশ আনা হয়েছে। আর ১০টি ইনস্টিটিউটের মধ্যে তিনটিতে কমানো, দুটিতে বাড়ানো ও বাকি পাঁচটিতে শিক্ষার্থী আসন অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণায় ১৬০ থেকে কমিয়ে ১২০, সমাজকল্যাণ ও গবেষণায় ১০৫ থেকে ১০০ ও আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে ১৬০ থেকে কমিয়ে ১৪০ নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। আর পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞানে ৩৫ থেকে ৪০ ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করার কথা বলা হয়েছে।

