লামায় সেনাবাহিনীর মানবিক সহায়তা

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০১:৩৯

বান্দরবানের লামা উপজেলার দূর্গম নাইক্ষ্যংমুখ এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে স্কুল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহায়তা এবং অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য দিনব্যাপী মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এ সহায়তা করা হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের অন্তর্গত বান্দরবান রিজিয়নের আলীকদম সেনা জোন শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন বজায় রাখার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আলীকদম ও লামা উপজেলায় মুরং, ত্রিপুরা, চাকমা, মার্মা, তঞ্চঙ্গ্যাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণ বসবাস করে। দূর্গম পাহাড়ি এলাকার জনগণ সাধারণত প্রকৃতির উপর নির্ভর করে জীবনযাপন করে থাকে। আধুনিক শিক্ষা, চিকিৎসাসহ অন্যান্য সামাজিক সুবিধা হতে বঞ্চিত এই জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সুদীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় যাবৎ বন্ধুর মত তাদের পাশে রয়েছে। 

লামা উপজেলার নাইক্ষ্যংমুখ এলাকাটি সব জাতি গোষ্ঠীর পিছিয়ে পড়া একটি জনপদ। অত্যন্ত দূর্গম এলাকাটি রুপসীপাড়া হতে ১১ কি.মি. উত্তর পূর্বে অবস্থিত। যেখানে বর্ষা মৌসুমে নৌকা চলাচল এবং শুকনো মৌসুমে পুরো রাস্তায় পায়ে হেটে চলাচল করতে হয়। তাই ওই এলাকাটির সাধারণ জনগণ বিভিন্ন মৌলিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা এবং শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। ওই জনপদের মুরং এবং ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর কল্যাণার্থে নাইক্ষ্যংমুখ প্রত্যয়ী স্কুল নামে একটি স্কুল নির্মাণ করা হয়েছে। 

এছাড়াও ওই এলাকায় মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের উপাসনার জন্য কোনো ধরনের মসজিদ না থাকায় সেখানে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য অবস্থিত কিয়াং ঘরে একটি পানি বিশুদ্ধ করণের ফিল্টার এবং বৌদ্ধ ভান্তের জন্য বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করা হয়। সেনাবাহিনী বিশ্বাস করে ওই স্কুলে শিক্ষা গ্রহণ করে এলাকার শিশু-কিশোররা শিক্ষার আলো ছড়াতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ধর্মীয় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর জনগণ ধর্ম চর্চার সুযোগ পাওয়াতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদার হবে। 

ওই এলাকার ১০ বর্গ কি.মি. এর মধ্যে এটি একমাত্র স্কুল এবং মসজিদ যা দ্বারা পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসরত ১০টি পাড়ার কয়েক হাজার অসহায় ও দুস্থ জনগণ উপকৃত হবে। দিনব্যাপী মানবিক সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ১০০টি কম্বল, ৮৫টি শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এছাড়া জনসাধারণকে করোনা মহামারী বিষয়ে সচেতন করা হয় এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়। 

কর্মসূচিতে আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার উপস্থিত ছিলেন। তিনি স্থানীয় জনগণকে মাদক পরিহার করে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করেন। জোন কমান্ডার পাহাড়ী সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও তাদের রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালিসহ সব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসাধারণের আপদকালীন সময়ে তাদের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করে আসছে, আজকের এ সহায়তা তারই একটি দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ সকল জাতি ও ধর্মের মানুষের পাশে থেকে তাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং যে কোন প্রয়োজনে সর্বদা নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।