মেহেরপুরের গাংনীর বেতবাড়িয়া গ্রামে বাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কাটতে গিয়ে ছয়টি ধাতব বস্তু পাওয়া গিয়েছিল। দুই দিন পর ঘটনাস্থলে খনন করে ৯৬টি মাইন উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে যশোর সেনানিবাস থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পুরো এলাকা পরীক্ষা করে। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে খনন চালিয়ে একে একে মাইনগুলো উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৭টি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন এবং ৭৯টি অ্যান্টি-পারসোনেল মাইন রয়েছে।
গাংনী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস জানান, উদ্ধার করা মাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করার জন্য পাশের মধুগাড়ি মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেগুলো নিষ্ক্রিয় করার কাজ করছেন। এ সময় পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
এর আগে শনিবার বেতবাড়িয়া গ্রামের প্রবাসী নুরুজ্জামান কালুর সাত শতাংশ জমিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য শ্রমিকেরা মাটি কাটছিলেন। এ সময় মাটির নিচ থেকে ছয়টি ধাতব বস্তু বেরিয়ে আসে। সেগুলোর গায়ে ‘মাইন ১৯৬৭’সহ বিভিন্ন লেখা ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে দেয় এবং সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, উদ্ধার হওয়া মাইনগুলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পুঁতে রাখা হয়ে থাকতে পারে। স্থানীয় প্রবীণ ও মুক্তিযোদ্ধারা জানান, বেতবাড়িয়ার কাছাকাছি দৌলতপুরের বেংগাড়ি মাঠে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছিল।
বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা জানান, ওই যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী পরাজিত হয়ে বেতবাড়িয়া হয়ে কুষ্টিয়ার দিকে পালিয়ে যায়। ওই সময় তারা এলাকায় মাইন পুঁতে রেখে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
মাইন উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সেনাবাহিনী মাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করার পর ঘটনাস্থলটি নিরাপদ কি না, তা পরীক্ষা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

