কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভুয়া দরপত্রের মাধ্যমে নিম্নমানের চিকিত্সাসামগ্রী উচ্চমূল্যে সরবরাহ দেখিয়ে সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সেই হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবজাল হোসেন, তার স্ত্রী রুবিনা খানম এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (স্বাস্থ্য শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুর রশিদসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে দুদক। আজ শুক্রবার এ মামলা দায়ের করবেন দুদকের অনুসন্ধান টিমের উপ-পরিচালক সামছুল আলম। আসামিদের বিরুদ্ধে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ সরকারি ৫ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একই কায়দায় ভুয়া দরপত্রের মাধ্যমে চিকিত্সা সামগ্রী সরবরাহের নামে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক।
দুদকের উপ-পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টচার্য জানান, আবজাল দম্পতিসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি চক্রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ অনুসন্ধান চলমান থাকালেও প্রথম মামলাটি হচ্ছে কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা সরঞ্জাম সরবরাহের নামে সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা আত্মসাতের। গতকাল বৃহস্পতিবার কমিশন ওই মামলার অনুমোদন দেয়। মামলার অন্য আট আসামি হলেন— স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিত্সা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন বিভাগের সাবেক পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. আবদুর রশীদ, কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ সুবাস চন্দ্র সাহা, সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রেজাউল করিম, কলেজের হিসাবরক্ষক হুররমা আক্তার খুকী, কক্সবাজার জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সুকোমল বড়ুয়া, একই দপ্তরের সাবেক এসএএস সুপার সুরজিত রায় দাশ, পংকজ কুমার বৈদ্য এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক উচ্চমান সহকারী খায়রুল আলম।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজে যন্ত্রপাতির প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই সাবেক অধ্যক্ষ রেজাউল করিম যন্ত্রপাতি কেনার উদ্যোগ নেন। এ জন্য তিনি ক্রয় সংক্রান্ত কাজ করার জন্য কমিটি গঠনের অনুমতি চেয়ে চিকিত্সা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন বিভাগের সাবেক পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর আবদুর রশীদকে চিঠি দেন। সেখান থেকে অনুমোদন পাওয়ার আগেই অধ্যক্ষ বিভিন্ন কমিটি গঠন করেন। চিঠি দিয়ে বিভাগীয় প্রধানদের কাছ থেকে চাহিদাপত্র চান। পরে বিভাগীয় প্রধানদের কাছ থেকে চাহিদাপত্র না পেয়েও তিনি পছন্দের ঠিকাদার রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে কার্যাদেশ দেন। রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক আবজাল হোসেনের স্ত্রী রুবিনা খানম। তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঁচটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন প্রকল্পে স্টেনোগ্রাফার হিসেবে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজে যোগ দেন ১৯৯৮ সালে। ২০০০ সালে স্বেচ্ছায় অবসরে গিয়ে রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে প্রতিষ্ঠান গড়ে ব্যবসা শুরু করেন। আবজালের সঙ্গে বিয়ের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একচেটিয়া ব্যবসা করার জন্য তাঁরা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রুবিনা খানম কার্যাদেশ অনুসারে যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করে ভুয়া ও ব্যবহার অনুপযোগী যন্ত্রপাতি বিভিন্ন দেশের লেবেল লাগিয়ে কক্সবাজার মেডিক্যালে সরবরাহ করেন। পরে ৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিল জমা দিয়ে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাত্ করেন। ওইসব যন্ত্রপাতি এখনো ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে।
