হামলার আশঙ্কায় অজানা গন্তব্যে

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:৫০

শ্রীলঙ্কার কয়েকটি গির্জা ও পাঁচ তারকা হোটেলে ইস্টার সানডে উদযাপনের দিন আত্মঘাতী হামলার পর সামপ্রদায়িক সহিংসতার আশঙ্কায় দেশটির পশ্চিম উপকূলীয় শহর নেগোম্বো থেকে মুসলমানরা দলে দলে পালিয়ে যাচ্ছে। যে কয়টি স্থানে ওই দিন হামলা হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি ছিল নেগোম্বের সেন্ট সেবাস্তিয়ান গির্জায়। সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট মঙ্গলবার হামলার দায় স্বীকার করেছে। বুধবার রাজধানী কলম্বোর উত্তরে এই বন্দর নগরী থেকে শতাধিক পাকিস্তানি মুসলমান এলাকা ছাড়তে শুরু করে। প্রতিশোধের হুমকির মুখে নিরাপত্তার অভাবে স্থানীয় মুসলিম নেতা ও পুলিশের সহযোগিতায় বাসে বোঝাই হয়ে তারা এলাকা ছেড়ে যায়। বিভিন্ন বার্তা সংস্থার সাংবাদিকদের কাছে তারা তাদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে জানায়, কোথায় যাচ্ছে বা যাবে তা তারা জানে না। আপাতত প্রাণে বাঁচার জন্য অজানা গন্তব্যে রওনা হওয়াকে নিরাপদ মনে করছে।

আদনান আলি নামে এক পাকিস্তানি মুসলিম বলেন, ‘এখানে বোমা বিস্ফোরণের কারণে স্থানীয় লোকজন আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। এই মুহূর্তে কোথায় যাব আমরা জানি না।’ ফারাহ জামিল নামে আরেকজন জানিয়েছেন, তার বাড়িওয়ালা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাড়িওয়ালা বলেছেন এখান থেকে বের হয়ে যাও। তোমার যেখানে খুশি সেখানে যাও কিন্তু এখানে বাস করো না। তাদেরকে তাড়াতে বিক্ষোভ চলছে সেখানেও। প্রায় ৮০০ জন মুসলিম নেগোম্বো থেকে পালিয়ে একটি শহরে আশ্রয় নিয়েছেন।

গত ২১ এপ্রিল খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডে উদযাপনকালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশের তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলসহ আটটি স্থানে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ৩৫৯ জনের প্রাণহানির খবর দেয়া হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ২৫৭। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রচারিত খবরে বিভ্রান্ত হয়ে সরকার প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে বাড়িয়ে বলেছিল। এদিকে, এই হামলায় প্রধান পরিকল্পনাকারী এখনো জীবিত আছে বলে দেশটির সরকার জানিয়েছে। ফলে আরো হামলার আশঙ্কায় ব্যাপক সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। -দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি