কয়েক লক্ষ অনানুষ্ঠানিক ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অনলাইন ব্যবসা-কার্যক্রমের ব্যাঘাত না ঘটিয়ে একই সাথে ভোক্তাদের আস্থা-বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ২০১৯ সাল থেকে বিভিন্ন সভায়, সেমিনার/ওয়েবিনারে আমি একটি নিবন্ধন পদ্ধতির কথা বলে আসছিলাম। যারা দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে বসে ফেসবুক-কে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে নানান জিনিসপত্র বিক্রি করে থাকেন, তাঁদেরকে যাতে ট্রেড লাইসেন্স নিতে বাধ্য না করা হয়, বরং তার বদলে একটা নিবন্ধন সিস্টেম করে নিবন্ধিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়— এই পরামর্শটি দিয়ে আসছিলাম।
নিবন্ধিত নম্বরটি তাঁরা তাঁদের ওয়েবপেজ বা ফেসবুক পেজ-এ প্রদর্শন করবেন, যাতে ক্রেতা বুঝতে পারেন যে ব্যবসাটি নিবন্ধিত। এতে ক্রেতা এই ভরসা পাবেন যে অনলাইন ব্যবসায়ীটিকে দরকারে খুঁজে পাওয়া যাবে। অনলাইন ব্যবসায়ীও তাঁর ব্যবসা পরিচালনায় সৎ ও সতর্ক থাকবেন। এতে করে ধীরে ধীরে অনলাইন কেনাকাটার ওপর ভোক্তার আস্থা বাড়বে।
আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, সরকার আমার এই পরামর্শটি গ্রহণ করে সকল ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি UBID (Unique Business ID)-র প্রবর্তন করেছেন। ৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম পদ্ধতিটি চালু করে কয়েকটি অনলাইন ব্যবসাকে নিবন্ধিত করা হয়েছে। একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এই নিবন্ধন করা যাবে। সকল অনলাইন ব্যবসায়ীকে (ই-কমার্স এবং এফ-কমার্স) এই নিবন্ধন করতে হবে। শুধুমাত্র জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, স্থায়ী ঠিকানা ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়েই এই নিবন্ধন করা সম্ভব।
আমি আশা করবো যে, এই নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি যাতে সহজতম উপায়ে করা যায়, কর্তৃপক্ষ সেদিকে খেয়াল রাখবেন। এর সাথে সাথে ভোক্তা-সচেতনা বাড়াতে হবে যে, তাঁরা অনলাইনে কেনাকাটা করার সময় যেন অবশ্যই UBID নম্বরটি জানতে চান, এবং যাদের এই নম্বর (নিবন্ধন) নেই, তাদের কাছ থেকে যাতে কোন কেনাকাটা না করেন। সন্দেহ হলে (যেমন, অস্বাভাবিক কোন অফার দেখলে ইত্যাদি) এই UBID নম্বরটি যাচাই করে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখাও প্রয়োজন।
লেখক: বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এবং বেসিসের সাবেক সভাপতি।
