বঙ্গোপসাগরে বোটডুবির পর আরও এক জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে বুধবার ( ৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে পর্যন্ত ছয়দিনে সাগর থেকে ৭ জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৫ জেলে।
দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বুধবার দুপুরে দুবলারচর থেকে মোবাইল ফোনে জানান, সাগরে বোটডুবিতে নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে তল্লাশি চালায় দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের জেলেরা। এর এক পর্যায়ে বুধবার সকালে পশ্চিম সুন্দরবনের হিরণপয়েন্টের দক্ষিণে সাগরের কালিরচর এলাকা থেকে এক জেলের মরদেহ উদ্ধার করে আলোরকোলে নিয়ে আসে তারা। উদ্ধারকৃত মরদেহটি আলোরকোলের শুঁটকি জেলে মফিজুলের (৩২) বলে জেলেরা শনাক্ত করে। নিহত মফিজুল মোংলার বকুলতলা গ্রামের রওশন আলী শেখের পুত্র। বুধবার দুপুরে স্বজনরা মফিজুলের মরদেহ নিয়ে গেছে বলে ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি জানিয়েছেন।
জেলেপল্লী দুবলা ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রহলাদ চন্দ্র রায় জানান, গত শুক্রবার রাতে সাগরে আকস্মিক ঝড়ে ছোট-বড় ২৫টি বোট ডুবে ১২ জেলে নিখোঁজের ঘটনায় গত ৬ দিনে সাগর থেকে ৭ জেলের লাশ উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধারকৃত লাশগুলো স্বজনরা নিয়ে গেছে। এখনো সাতটি ফিসিংবোট ও আলোরকোলের দুইজনসহ ৫ জেলে নিখোঁজ রয়েছে বলে ঐ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইদুর রহমান জানান, সাগরে বুধবার উদ্ধারকৃত জেলের মরদেহের বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে বোটডুবির ঘটনায় গত পাঁচদিন ধরে ৫০টি বোট নিয়ে সাগরে নিখোঁজ জেলেদের সন্ধান করে যাচ্ছে জেলেরা। তল্লাশিতে সোমবার দুপুর ও সন্ধ্যায় সাগরে ভাসমান দুইজন এবং মঙ্গলবার সকালে আরও দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার করে দুবলার আলোরকোলে নিয়ে আসে তারা। মঙ্গলবার দুপুরে নিহতদের স্বজনদের কাছ লাশ হস্তান্তর করা হয়। নিহত জেলেরা হচ্ছে, আনোয়ার হোসেন বাদল (৫০), মুহিত মোল্লা (৪০), রুহুল হাওলাদার (৪২) ও সহিদুল মল্লিক (৪০)। তাদের সবার বাড়ি বাগেরহাটের কচুয়ার বগা ও আন্ধারারমানিক এলাকায়। এর আগে গত শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সাগর উল্টে ভাসমান ফিসিংবোট থেকে উদ্ধার করা চিতলমারীর কালীগঞ্জ গ্রামের জেলে মামুন (৪০) ও মঠবাড়ীয়ার জানখালী গ্রামের জেলে ইসমাইলের (৩৩) মরদেহ স্বজনরা দুবলার ভেদাখালী থেকে বাড়িতে নিয়ে যায়।
