ইউক্রেনকে সমুদ্রে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে রাশিয়া বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই অঞ্চলে উত্তেজনার মধ্যেই আগামী সপ্তাহে নৌ মহড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
নৌ মহড়া নিয়ে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা জানান, আজোভ সাগর সম্পূর্ণ অবরোধ করে রাখা হয়েছে। কৃষ্ণ সাগর প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে রুশ বাহিনী।
সীমান্তে এক লাখের বেশি সেনা মোতায়েন করার পরও ইউক্রেনে কোনো আগ্রাসন চালানোর পরিকল্পনার কথা বার বার অস্বীকার করে আসছে রাশিয়া। তবে প্রতিবেশি বেলারুশের সঙ্গে বড় আকারের সামরিক মহড়া শুরু করেছে মস্কো। রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের সঙ্গে ইউক্রেনের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।
বেলারুস রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ইউক্রেনের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এ সামরিক মহড়া উপলক্ষে বেলারুসে যে সৈন্য সমাবেশ করেছে রাশিয়া তাকে স্নায়ুযুদ্ধের পর বৃহত্তম মহড়া বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি রাশিয়া তাদের ইউক্রেন-সংলগ্ন সীমান্তে এক লাখেরও বেশি সৈন্য সমাবেশ করার পর তারা যে কোনো সময় সেখানে অভিযান চালাতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো আশঙ্কা করছে। তবে রাশিয়া বার বার এরকম কোনো পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে।
বেলারুস ও রাশিয়ার এই যৌথ সামরিক মহড়াকে ফ্রান্স একটি ‘সহিংস ইঙ্গিত’ বলে আখ্যা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এ মহড়াকে উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে এমন একটি পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে বলেছেন, সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ আমাদের প্রতিবেশীদের পক্ষ থেকে একটা মানসিক চাপ। তবে রাশিয়া তা অস্বীকার করেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বৃহস্পতিবার বলেছেন, গত কয়েক দশকের মধ্যে ইউরোপ এখন সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা সংকটের সম্মুখীন।
আশংকা করা হচ্ছে যে, রাশিয়া ইউক্রেনে অভিযান চালালে এই মহড়ার জন্য আসা রুশ সৈন্যরা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের অনেক কাছাকাছি থাকবে এবং তাদের জন্য শহরটির ওপর আক্রমণ চালানো সহজতর হবে।
মস্কো ও মিনস্ক কেউই তাদের ঠিক কত সৈন্য এ মহড়ায় যোগ দেবে তা প্রকাশ করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, প্রায় ৩০ হাজার রুশ সৈন্য এতে অংশ নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
