মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ফুলের তোড়া বা প্যাকেটের আড়ালে মাজারে ইয়াবা!

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০২:৩৯

রাজধানীতে মাদকের কারবার নির্বিঘ্নে চালাতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে অপরাধীরা। ‘কাটআউট পদ্ধতিতে’ চলছে ইয়াবার কারবার। এক ইয়াবার ডিলার আরেক জনকে চেনে না। ফুলের তোড়া বা প্যাকেটের আড়ালে মাজারে যাচ্ছে ইয়াবা। সেখান থেকে সাপ্লাই চেইন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ইয়াবা কারবার সহজ করতে গড়া হচ্ছে মাজার। সর্বশেষ ইয়াবার সঙ্গে আইসের চালানও আসছে বিমানযোগে। প্রসঙ্গত, কারবারিরা গ্রেফতার এড়াতে পারস্পরিক পরিচয় ছাড়াই মাদক সরবরাহ ও অর্থ লেনদেন চালিয়ে যেতে যে কৌশল নিয়েছে, সেটিকেই ‘কাটআউট’ বলা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মাদক ব্যবসার অন্যতম হোতা মো. আব্দুল্লাহ মনির ওরফে পিচ্চি মনির ও তার সহযোগীকে হাজারীবাগ থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বিদেশি অস্ত্র, ইয়াবা ও নগদ অর্থ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে র‍্যাব-২-এর একটি দল হাজারীবাগ থানা এলাকার মধুবাজারের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করে আব্দুল্লাহ মনির ওরফে পিচ্চি মনির (৩৩) ও তার সহযোগী মো. জুবায়ের হোসেনকে (৩৩) গ্রেফতার করে।

অভিযানে জব্দ করা হয় দুইটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগজিন, ১২ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৮ হাজার ৭৭০ পিস ইয়াবা, ৬ গ্রাম আইস এবং মাদক বিক্রির নগদ ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার মনির মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার কথা স্বীকার করেছে।

গ্রেফতার পিচ্চি মনিরের পরিবার জীবিকার সন্ধানে ১৯৯৫ সালে ঢাকায় এসে লালবাগ থানার শহীদনগর এলাকায় বসবাস শুরু করে। মনিরের বাবা চাতক শাহ ফলের ব্যবসা শুরু করেন। মনির তাকে সহযোগিতা করত। এক সময় মনির এলাকার বখে যাওয়া ছেলেদের সঙ্গে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে সে এলাকার বখাটেদের নিয়ে লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় অপরাধ চক্র গড়ে তোলে। চক্রের হাত ধরে মাদক ব্যবসায় নামে মনির।

২০১২ সাল থেকে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় মনির তার বন্ধুর সঙ্গে পার্টনারশিপে মাদক ব্যবসা শুরু করে। প্রথমে স্থানীয় মাদক ডিলারদের কাছ থেকে অল্প অল্প করে মাদক কিনে খুচরা মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করত। ২০১৬ সাল থেকে নিজেই কক্সবাজারের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ডিল করা শুরু করে। গড়ে তোলে নিজস্ব মাদক নেটওয়ার্ক। এরপর টেকনাফ ও কক্সবাজার থেকে তার কাছে নিয়মিত ইয়াবা সরবরাহ করা হতো।

ছদ্মবেশে ইয়াবার চালান পৌঁছে দিত ডিলাররা: গ্রেফতার মনির জিজ্ঞাসাবাদে র‍্যাবকে জানিয়েছেন, প্রতিমাসে কয়েকটি চালান টেকনাফ, কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আনা হতো। পরে রাজধানীর মিরপুর-১৩, ইসলামবাগ, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, আজিমপুরসহ আরো বিভিন্ন এলাকায় খুচরা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদক সরবরাহ করা হতো। প্রত্যেক খুচরা বিক্রেতার জন্য ভিন্ন ভিন্ন মোবাইল ফোন ব্যবহার করত সে। মনির ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় ভাড়াটিয়া ছদ্মবেশে মাদকের কারবার করত। কখনো ফুলের তোড়া বা প্যাকেটের আড়ালে মাজারে পৌঁছে দিত ইয়াবার চালান। সেখান থেকে ডিলাররা পৌঁছে দিত গন্তব্যে।

কমান্ডার মঈন বলেন, গ্রেফতার মনির শরীয়তপুরে নিজ বাড়িতে কোটি টাকার স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। তিনি তার মৃত বাবার কৃতী সন্তান, এমনটিই জনসাধারণকে জানানো ও এলাকায় প্রচারের উদ্দেশ্যে মাদক ব্যবসার অবৈধ টাকা দিয়ে একটি মাজার নির্মাণ করেছেন। তবে র‍্যাব জানতে পেরেছে, ওই মাজার গড়া হচ্ছে ইয়াবা কারবারের জন্য।

সর্বশেষ ইয়াবা-আইসের চালান আসে বিমানে:কক্সবাজার থেকে সে বিভিন্ন উপায়ে ইয়াবা আনতো মনির। কখনো কক্সবাজার-টেকনাফের কারবারিরা নিজেরাই ঢাকায় এসে ইয়াবা পৌঁছে দিতো। তবে সর্বশেষ ইয়াবার চালান এসেছে বিমানযোগে। সেই ইয়াবা আনা হয় কার্বন পেপারে মুড়িয়ে। ২০০ পিস ইয়াবার একেকটি চালান প্যাক করে কারবারিদের মাধ্যমে রাজধানীর আটটি জোনে সরবরাহ করে মনির। বিমানে কীভাবে আসছে ইয়াবা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কক্সবাজার থেকে ইয়াবা নিয়ে আসা দুই জনের এয়ার টিকিট পেয়েছি। যারা মনিরের কাছে ২০ হাজার পিসের ইয়াবার চালান ও ৫০ গ্রাম আইস পৌঁছে দিয়েছে। মনিরের বক্তব্যে উঠে এসেছে বিমানেই এসেছিল সেই চালান।

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৪৬

শাহজালাল বিমানবন্দরে ফের দুই বিমানের সংঘর্ষ  

দক্ষিণখানের ‘চেয়ারম্যান বাড়ি’ রাস্তা বৃষ্টি ছাড়াই ডুবে থাকে হাঁটু পানিতে 

বিশেষ সংবাদ

যাত্রীছাউনি যখন ব্যবসাকেন্দ্র

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

আস্তানায় খুন: পীর হাসান শাহ ও নারী মুরিদ আটক

রত্নাগর্ভা আম্বিয়ার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

‘ইভ্যালির কাছে ২৫ কোটি টাকার পণ্য রয়েছে’

হলি আর্টিজানে নিহতদের স্মরণ