পাথরঘাটা উপজেলা থেকে সাত কিলোমিটার দূরে হরিণঘাটা হতে পারে একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র। এখানে বন এবং সমুদ্র একই সঙ্গে দেখতে পাওয়া যায়। বনের মধ্যে আকর্ষণীয় হরিণ, শুয়োর, বানর বন্যমুরগি এবং বিভিন্ন প্রাণী দেখা যায়।
দেখা গেছে, এখানে পাঁচতলা সমতুল্য একটি ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়েছে। যেখানে বসে বনের মধ্যে সব প্রাণীদের দেখা যাবে এবং আকর্ষণীয় জীবজন্তু এবং বনের গভীরতা উপলব্ধি করা যাবে। বনের মধ্যে আছে একটি আকর্ষণীয় দীঘি। আছে বিভিন্ন পিকনিক স্পট। এদিকে, সমুদ্রের কোলঘেঁষে বিশাল ঝাউবন পর্যটকদের আকর্ষণের প্রধান স্পট।
এখানে নিরাপত্তার জন্য ফরেস্টের বিট কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার কোনো অভাব নেই। ফরেস্টের লোকজন আছেন, পর্যটকদের যে কোনো বিষয়ে তারা সাহায্য করবেন। হরিণঘাটা থেকে মাত্র ২৫ মিনিট বোট বা ট্রলারে গেলে দেখা যাবে লালদিয়ার চর। সেখানে শুটকি শুকাতে ব্যস্ত জেলেরা। ট্রলার, জাল নিয়ে নোঙর করে আছে জেলেরা।
স্থানীয়রা জানান, হরিণঘাটায় পর্যটনকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু রেস্তোরাঁ তৈরি হয়েছে। পাথরঘাটায় থাকার জন্য বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল, গেস্টহাউসও রয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কবির বলেন, পাথরঘাটার হরিণঘাটা পর্যটন কেন্দ্রটি সরকারিভাবে আরো পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দৃষ্টিনন্দন করা যেত। এছাড়া হরিণঘাটায় পর্যটন করপোরেশনের একটি সরকারি মোটেল হলে পর্যটন কেন্দ্রটির আরো সৌন্দর্য বৃদ্ধি হতো। পর্যটকের সংখ্যা বাড়ত এবং দক্ষিণ অঞ্চলের পর্যটনশিল্প আরো বিকশিত হতো।
তবে ঘুরতে আসা পর্যটকরা জানিয়েছেন, রাস্তাঘাটের আরো উন্নতি করতে হবে এবং হরিণঘাটা থেকে বনের মধ্যে দিয়ে সমুদ্র পর্যন্ত একটি রাস্তা নির্মাণ হলে পর্যটকদের বেশি আকর্ষণ করা যাবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ আল মোজাহিদ বলেন, হরিণঘাটার ওপর বিশেষ দৃষ্টি আছে সরকারের। ইতিমধ্যে হরিণঘাটায় দুটি ওয়াস রুম, ২টি পিকনিক কর্নার, ১টি গেট নির্মাণ ও ট্যুরিজম বোর্ডের মাধ্যমে একটি ডাকবাংলো করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পেশ করা হয়েছে—যা দ্রুত কার্যকর হবে বলে আশা করছি।
