অনলাইনে অর্থ লেনদেন (ক্রিপ্টোকারেন্সি) চক্রের ৩ সদস্যকে বগুড়া জেলা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সাইবার পুলিশ বগুড়া ইউনিটের একটি বিশেষ টিম হবিগঞ্জ ও লক্ষীপুর জেলায় টানা গত দুই দিন অভিযান চালিয়ে মূল হোতাদের গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে ২টি ল্যাপটপ, ১৬টি মোবাইল, ২০টি সিম ও চক্রে ব্যবহৃত দুটি ওয়েবসাইট উদ্ধার করেছে।
শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টায় বগুড়া পুলিশ সুপারের সন্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সন্মেলনে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূইয়া এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসায় জড়িত চক্রটি এক শ্রেণির গ্রাহকের কাছ থেকে বিটকয়েন, বিটকয়েন ক্যাশ, লাইটকয়েন, ওয়েবমানি, পারফেক্ট মানি কেনাবেচা করে। গ্রাহক চক্রটির কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রথমে টাকা প্রেরণ করে, বিনিময়ে চক্রটি গ্রাহকের চাহিদামত অনলাইন ওয়ালেট বা একাউন্টে এ ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রেরণ করে।
চক্রটি কারো কাছে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রেরণ করে। আবার কারো কারেন্সি না পাঠিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে। সাইবার পুলিশ বগুড়া ইউনিট বেশ কয়েকমাস ধরে এমন কিছু বিট কয়েন ব্যবসায়ী চক্রের উপর নজর রেখেছিল। তারা বেশ খোলামেলাভাবে অনলাইনে এই অবৈধ ব্যবসা করে আসছিল। এমনকি গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী তারা বিভিন্ন ক্লায়েন্টকে বিটকয়েন দেওয়ার কথা বলে বেশ মোটা অংকের টাকাও ইতিমধ্যে আত্মসাৎ করেছে।
এমন একটি চক্রের ৩ সদস্যকে সাইবার পুলিশ বগুড়ার ইন্সপেক্টর মোঃ এমরান মাহমুদ তুহিনের নেতৃত্বে গত ২৩ ও ২৪ এপ্রিল হবিগঞ্জের মাধবপুর থানা এলাকা এবং লক্ষীপুর জেলার রায়পুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে। এরা হলো, হবিগঞ্জের মাধবপুরের আন্দিউড়া গ্রামের মৃত শাহ মোঃ হিরনের পুত্র আহসান হাবীব ওরফে শাহ মোঃ তানিম(২২), একই এলাকার বাদশা মিয়ার পুত্র সোহেল মিয়া ওরফে কাজী সোহেল (২৭) এবং লক্ষীপুরের রায়পুর থানার বামনী গ্রামের বেলাল হোসেনর পুত্র মারুফ হোসাইন ওরফে মারুফ বিল্লাহ।
পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছেএই চক্রটি ২০ ডিসেম্বর ২০১৭ এবং ২০১৮ সালের ১৪ জানুয়ারি দুটি ওয়েব সাইট তৈরি করে। তবে ওয়েব সাইট দুটি অবৈধ ই- ট্রানজেকশনের ক্ষেত্রে বিগত ৫/৬ মাস ধরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। চক্রটির ওয়েব সাইট প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে দেখা গেছে, তাদের ওয়েবসাইটের ইউজার সংখ্যা ৭ হাজার ৩৬২ জন। প্রায় ২৭ হাজার ৮শটির মতো একচেঞ্জ সম্পন্ন হয়েছে। এখনও একটি চলমান।
ধারণা করা হচ্ছে, ওয়েবসাইট দুটি পরিচালনায় এই চক্রের আরো কিছু এডমিন রয়েছে। এই ওয়েবসাইট থেকে যেসব কারেন্সি এক্সচেঞ্জ হয়ে থাকে সেগুলো হচ্ছে বিটকয়েন, বিটকয়েন ক্যাশ, লাইটকয়েন, ওয়েবমানি ইত্যাদি। এর মধ্যে বাংলাদেশে বিটকয়েন, বিটকয়েন ক্যাশ, লাইটকয়েন লেনদেন করা অবৈধ।
এছাড়া এ চক্রটির কাছ থেকে বিকাশ, রকেট এবং কিছু মোবাইল ব্যাংকিংয়ের একাউন্ট পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে অবৈধ লেনদেনের টাকা তারা এ সকল একাউন্টে জমা রাখে।
পুলিশ সুপার বলেন, মূলহোতা আহসান হাবীন তানিম অন্য নাম ব্যবহার করে ২টি ওয়েবসাইট তৈরি করে। এই ওয়েবসাইটটি তানিম তার সহযোগী সোহেল মিয়ার সাহায্যে একটি ফেসবুক গ্রুপে প্রমোট করে। যাতে সহজেই অনলাইনে ক্লায়েন্ট পাওয়া যায়। তানিমের পাটনার সোহেল মিয়া ওরফে কাজী সোহেল এই ব্যবসার সকল হিসেব নিকেশ থেকে শুরু করে বিকাশ, রকেট এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের একাউন্ট হ্যান্ডেল করে থাকে। মারুফ হোসাইন তানিমের ব্যবসার টাকা যোগানদাতা।
আরও পড়ুনঃ কটিয়াদীতে যুবক খুন
প্রাথমিক জিজ্ঞসাবাদে এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে বগুড়া সদর থানায় ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩০ এর ১ (খ) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
