জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:১৮

বিজ্ঞান

মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন

সিনিয়র শিক্ষক

দুলালপুর এস.এম.এন্ড কে উচ্চ বিদ্যালয়

কুমিল্লা।

 

 

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের জন্য অধ্যায়ভিত্তিক রচনামূলক (সৃজনশীল) প্রশ্নোত্তর তুলে ধরা হচ্ছে। আজ চতুর্থ অধ্যায় অর্থাত্ “উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি” থেকে  অনুশীলনীর সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্ন তুলে ধরা হলো।

ক.  অপ্রকৃত ফল কাকে বলে?

খ. পতঙ্গপরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য লেখ।

গ. চিত্র- A  এর বিভিন্ন অংশ চিহ্নিত করে তা ব্যাখ্যা করো।

ঘ. চিত্র- B তে কোন ধরনের অঙ্কুরোদগম ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ক.  গর্ভাশয় ছাড়া ফুলের অন্যান্য অংশ পুষ্ঠ হয়ে যখন ফলে পরিণত হয় তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে। যেমন- আপেল, চালতা ইত্যাদি।

খ.  পতঙ্গপরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য হলো-

i. পতঙ্গপরাগী ফুল আকারে বড়, রঙ্গিন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত হয়।

ii.  পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঠালো ও সুগন্ধযুক্ত।

গ.উদ্দীপকে চিত্র- A  হলো একটি আদর্শ ফুল। নিচে  চিত্র- A  এর বিভিন্ন অংশের চিহ্নিতকরণসহ বর্ণনা করা হলো-                                                    

বৃতি:  ফুলের সর্ব বাহিরের স্তবককে বৃতি বলে। সাধারণত এরা সবুজ রঙের হয়। বৃতি খণ্ডিত না হলে সেটি যুক্ত বৃতি, কিন্তু যখন এটি খণ্ডিত হয় তখন বিযুক্ত বৃতি বলে। এর প্রতি খণ্ডকে বৃত্যাংশ বলে। বৃতি ফুলের অন্য অংশগুলোকে রোদ, বৃষ্টি ও পোকা-মাকড় থেকে রক্ষা করে।

দলমণ্ডল:  এটি বাইরের দিক থেকে দ্বিতীয় স্তবক। কতগুলো পাপড়ি মিলে দলমণ্ডল গঠন করে। এর প্রতিটি অংশকে পাপড়ি বা দলাংশ বলে। পাপড়িগুলো পরস্পর যুক্ত (যেমন- ধুতরা) অথবা পৃথক (জবা) থাকতে পারে। এরা বিভিন্ন রঙের হয়। দলমণ্ডল রঙিন হওয়ায় পোকা-মাকড় ও পশুপাখি আকর্ষণ করে ও পরাগায়ন নিশ্চিত করে। এরা ফুলের অন্য অংশগুলোকে রোদ, বৃষ্টি থেকে রক্ষা করে।

পুংস্তবক বা পুংকেশর: এটি ফুলের তৃতীয় স্তবক। এই স্তবকে প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলে। পুংকেশরের দণ্ডের ন্যায় অংশকে পুংদণ্ড এবং শীর্ষের থলের ন্যায় অংশকে পরাগধানী বলে। পরাগধানীর মধ্যে পরাগরেণু উত্পন্ন হয়। পরাগরেণু থেকে পুং জননকোষ উত্পন্ন হয়। এরা সরাসরি জনন কাজে অংশগ্রহণ করে।

স্ত্রীস্তবক বা গর্ভকেশর : এটি ফুলের চতুর্থ স্তবক। এক বা একাধিক গর্ভপত্র নিয়ে একটি স্ত্রীস্তবক গঠিত হয়। একের অধিক গর্ভপত্র সম্পূর্ণভাবে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকলে তাকে যুক্তগর্ভপত্রী, আর আলাদা থাকলে বিযুক্তগর্ভপত্রী বলে। একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ, যথা- গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড ও গর্ভমুণ্ড। গর্ভাশয়ের ভিতরে ডিম্বক সাজানো থাকে। ডিম্বকে স্ত্রী জননকোষ বা ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়। এরা পুংস্তবকের ন্যায় সরাসরি জনন কাজে অংশগ্রহণ করে।

ঘ. উদ্দীপকে চিত্র- B তে মৃতগত অঙ্কুরোদগম ঘটেছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-

বীজ থেকে শিশু উদ্ভিদ উত্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে অঙ্কুরোদগম বলে। যথাযথভাবে অঙ্কুরোদগম হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পানি, তাপ ও অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। যখন ভ্রুণকাণ্ড মাটি ভেদ করে উপরে উঠে আসে কিন্তু বীজপত্রটি মাটির ভিতরে থেকে যায় তখন তাকে মৃদুগত অঙ্কুরোদগম বলে, যেমন ছোলা, ধান এ প্রকার অঙ্কুরোগমে বীজপত্র দুটি মাটির নিচে রেখে ভ্রুণকাণ্ড উপরে উঠে আসে। বীজ পত্রাধিকাণ্ডের অতিরিক্ত বৃদ্ধি এর কারণ। ছোলাবীজ একটি অসস্যল দ্বিবীজপত্রী বীজ। মাটিতে ছোলা বীজ বুনে পরিমিত পানি, তাপ ও বায়ুর ব্যবস্থা করলে দুই তিন দিনের মধ্যে বীজ হতে অঙ্কুর বের হবে এবং মাটির উপরে উঠে আসবে। পানি পেয়ে বীজটি প্রথমে ফুলে উঠে এবং ডিম্বকরন্ধ্রের ভিতর দিয়ে  ভ্রুণমূল বেরিয়ে আসে। এটি ধীরে ধীরে প্রধান মূলে পরিণত হয়। দ্বিতীয় ধাপে ভ্রূণকাণ্ড মাটির উপরে উঠে আসে। এক্ষেত্রে ভ্রুণপত্র দুটো মাটির নিচে থেকে যায়। প্রাথমিক অবস্থায় ভ্রুণ তার খাদ্য বীজপত্র থেকে পেয়ে থাকে।