ঘাড় ও কাঁধের ব্যথা প্রচলিত একটি সমস্যা। নাগরিক জীবনে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন ও ট্যাবের যান্ত্রিক পর্দার দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকার ফলে ঘাড় ও কাঁধে অসহনীয় ব্যথা হতে পারে।
কাঁধের জোড়ার সমস্যার কারণে ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানের সমস্যার কারণেও কাঁধে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ঘাড়ের সমস্যায়, পিত্তথলির প্রদাহ কিংবা ফুসফুসের সমস্যাতেও কাঁধে ব্যথা হয়। এসবের বাইরে কাঁধে ব্যথার অন্যতম একটি কারণ হলো আঘাত।
ঘাড় ও কাঁধে ব্যথায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই গুগল দেখে অনেকেই ওষুধ খেয়ে থাকেন, যা একেবারেই ঠিক নয়। এতে ব্যথা তো যায়ই না, উল্টো সামান্য ছুঁলেই যন্ত্রণায় বিকৃত হয়ে যায় মুখ। দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা চেপে রাখলে শরীরের পেন রিসেপটরের অ্যানাটমিক্যাল গঠনের পরিবর্তন হয়। তার ফলেই দেখা যায় হাইপ্যারালজিসিয়া।
ফ্রোজেন শোল্ডার বা কাঁধ জমে যাওয়া শব্দটির সঙ্গে কমবেশি সবাই পরিচিত। এ সমস্যাতেও ভোগেন অনেকে। ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, স্ট্রোকের কারণে এ ধরনের ব্যথা হতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াও হতে পারে ব্যথা। ব্যায়ামই এমন সমস্যার মূল চিকিৎসাসা। উল্টাপাল্টা পেইনকিলার না খেয়ে ব্যায়াম শিখে নিয়ে বাড়িতেই নিজে নিজে নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
যদি দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করতে হয়, সেক্ষেত্রে মাঝে মধ্যে ২-৩ মিনিটের জন্য ‘ব্রেক’ নিয়ে একটু হেঁটে আসতে হবে। ৩ ঘণ্টা একটানা বসে থাকলে শরীরের ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা এক ধাক্কায় প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। সেই সঙ্গে শরীরের ফ্যাট ঝরানোর উৎসেচকের ক্ষরণ প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। তাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলে ঘাড়ে, কোমরে বা পিঠে ব্যথা বাড়বে। ব্যথা কমানোর পরামর্শ হলো ব্যয়াম করা।

