বগুড়ার শেরপুরে চুরির অপবাদে চার কিশোর শ্রমিককে নির্যাতন

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:০১

বগুড়ার শেরপুরে রাইস মিলের বিদ্যুতের তার চুরির অপবাদ দিয়ে চার কিশোর শ্রমিকের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ইয়াকুব আলী ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। মজুরির বকেয়া টাকা চাওয়ায় তাদেরকে একটি মিলঘরের মধ্যে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। পরে স্থানীয় লোকজন কিশোর শ্রমিকদের উদ্ধার করে গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন।

নির্যাতনের শিকার কিশোর শ্রমিকরা হলেন-উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের মহিপুর কলোনী গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে মেহেদী হাসান (১৩), একই গ্রামের নয়ন মিয়ার ছেলে ফিরোজ হাসান (১৬), স্বপন মণ্ডলের ছেলে তুষার (১৫) ও তুহিন (১৩)।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের মহিপুর জামতলা গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে ইয়াকুব আলীর জোয়ানপুর গ্রামে একটি রাইস মিল রয়েছে। সেখানে ঐ সব কিশোর শ্রমিকরা কাজ করে। তাদের গত সাত দিনের মজুরি বকেয়া রাখা হয়। মঙ্গলবার সকালের দিকে ঐ সব শ্রমিক মজুরির বকেয়া টাকা চাওয়ায় মিলমালিক ইয়াকুব আলী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। শ্রমিকরা প্রতিবাদ জানালে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি।

এসময় কিশোর শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মিলের ‘তার’ চুরির মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়। এমনকি এই চুরির অপবাদে ঐ দিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদেরকে মিলঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়। সেই সঙ্গে ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বে মহিপুর বাড়ইপাড়ার রাসেলসহ আরো দুই-তিন জন ব্যক্তি কিশোর শ্রমিকদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো শুরু করেন। জিজ্ঞাসাবাদের নামে এভাবে প্রায় ছয় ঘণ্টা মিলঘরে আটকে রেখে তাদের মারধর করা হয়। এতে তাদের শরীর রক্তাক্ত জখম হয়। একপর্যায়ে নির্যাতন সইতে না পেরে কিশোর শ্রমিকরা চিৎকার শুরু করে। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজিদ হাসান বলেন, মারধরের শিকার চার কিশোরের হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শঙ্কার কোনো কারণ নেই। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইত্তেফাক/এমআর