দ্বিতীয় কিস্তির টাকা না আসায় বন্ধ শতাধিক হাওররক্ষা প্রকল্প 

পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে ফসল ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা 

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০১:৩২

সিলেটের ‘হাওর রক্ষা’ বাঁধের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা বরাদ্দের অভাবে শতাধিক প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। কোনো কোনো স্হানে ধীরগতি চলছে। দ্রুত বাকি টাকার ছাড় না হলে সরকারের বেঁধে দেওয়া সময় ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হবে না। আর মৌসুমের শুরুতেই পাহাড়ি ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ‘সোনার ফসল’ ভেসে যাবে। অপচয় হবে সরকারের কোটি কোটি টাকার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, সিলেট বিভাগের চার জেলার ‘হাওর রক্ষা’ প্রকল্পে এবার চাহিদা ছিল ১২৮ কোটি টাকা। বরাদ্দ পাওয়া যায় ৬৬ কোটি টাকা, যার সবটাই প্রকল্প খাতে ব্যয় হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার ইত্তেফাককে বলেন, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবহিত রয়েছে। শিগগিরই অর্থ ছাড় হবে। তিনি বলেন, ‘যেসব প্রকল্পের গতি ধীর, সেই সব স্হান পরিদর্শন করে অতিরিক্ত লোকবল ও এক্সকাভেটর লাগানোর নির্দেশনা দিয়েছি। এর মধ্যে গড়ে ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’ 

মাঘের শেষের বৃষ্টিতে সিলেট বিভাগের ফসলের মাঠ ফাল্গুনী হাওয়ায় দুলছে। বোরো ফসল ঘরে তোলার স্বপ্নে বিভোর কিষান-কিষানিরা। সম্পূর্ণ প্রকৃতিনির্ভর অঞ্চলের প্রধান এই ফসল মৌসুমের শুরুর বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের হুমকিতে পড়ে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এবারও সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার বিভিন্ন স্হানে হাওর রক্ষা প্রকল্পের কাজ করছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে। প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বাঁধ নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ ও হাওরে ক্লোজার বন্ধ। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার সংশয় রয়েছে। তবে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বিভিন্ন এলাকার প্রকল্প পরিদর্শন করে দ্রুত কাজ সম্পন্নের তাগাদা দিয়েছেন।

১০৫টি ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ বন্ধ 

দ্বিতীয় কিস্তির টাকা না আসায় সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ৯টি হাওরের ১৫৭টি ফসলরক্ষা বাঁধের মধ্যে ১০৫টির কাজ গত সোমবার থেকে প্রায় বন্ধ। ধর্মপাশা উপজেলার রুই বিল, কাইলানী, ঘোড়াডোবা, গুরমা, চন্দ্র সোনার থাল, সোনামড়ল, ধানকুনিয়া, গুরমা বর্ধিতাংশ, জয়ধনা এই ৯টি হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের জন্য বরাদ্দ ৩০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। চার কিস্তিতে টাকা দেওয়ার কথা।

চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ৮২নম্বর পিআইসি‘র সভাপতি মো. আবু নায়ুম বলেন, ৫৫০মিটার বাঁধের ভাঙা অংশ বন্ধকরণ ও বাঁধ পুনঃনির্মাণ কাজের জন্য বরাদ্দ ১৩ লাখ ৭৮হাজার ৪৮৫ টাকা। প্রথম কিস্তিতে বরাদ্দের শতকরা ২০ ভাগ টাকা পেলেও তা অনেক আগেই শেষ। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা না পাওয়ায় গত সোমবার থেকে বাঁধের প্রকল্প কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।

মাত্র ১০ দিন বাকি

কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে সিলেট বিভাগে মোট ৪ লাখ ৮৫ হাজার, ৪৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়। এর মধ্যে শুধু সুনামগঞ্জ জেলায়ই ২ লাখ ২২ হাজার ৬৯৫ হেক্টরে বোরো চাষ হয়। এ বছর সুনামগঞ্জের ৩৬টি হাওর রক্ষা কাজ চলছে। এক হাজার ৬শ কি.মিটার বেরি বাঁধের মধ্যে ৫২০ কি.মিটার বাঁধের কাজ হবে সুনামগঞ্জে। 

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি