সিরাজগঞ্জে কমছে সাবেকি লাঙলের ব্যবহার

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০১:৪৩

আধুনিকতার ছোঁয়ায় সিরাজগঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে কৃষিকাজে ব্যবহূত লাঙল-জোয়াল। এখন কৃষিযন্ত্র দিয়ে হালচাষ করায় কমেছে লাঙল-জোয়াল ও গরুর ব্যবহার। অতীতে দেখা যেত সেই কাকডাকা ভোরে কৃষকরা গরু ও কাঁধে লাঙল-জোয়াল নিয়ে বেরিয়ে পড়ত মাঠের জমিতে। বর্তমানে আধুনিকতার স্পর্শে ও বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে কৃষকদের জীবনে এসেছে নানা পরিবর্তন।

বর্তমানে গরু, গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, অন্যান্য সংকটে কৃষকরা এখন গরু ও লাঙল-জোয়ালের পেশা বদলে অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিনের জমি চাষের পদ্ধতি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।

উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নে কৃষ্ণ জীবনপুর গ্রামের কৃষক ময়নাল বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে হালচাষের কাজ করে আসছি। আমার বাড়িতে হালচাষের বলদ গরু রয়েছে। এক জোড়া হালের বলদ কিনতে ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে দেড় লক্ষাধিক টাকা লাগে। এছাড়া বাজারে গরুর খাবারের মূল্য, এক জন হালিয়ার মজুরি ও পরিচর্যা ব্যয়ভার বৃদ্ধি পাওয়ায় হালের গরু কেউ রাখতে চায় না। তাছাড়াও লাঙল দিয়ে জমি চাষ করতে জমির মালিকরাও আজ অনীহা প্রকাশ করে চলেছেন।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুজাফর মো. আহসান শহীদ সরকার বলেন, গরু-মহিষ, লাঙল ও জোয়াল ছিল আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি। সেই সময় কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ছিল না। কিন্তু এখন আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি পুরাতন চাষ পদ্ধতিকে আমূল পরিবর্তন করেছে।

ইত্তেফাক/বিএএফ