ঝিনাইদহে নষ্ট হচ্ছে দুইটি হেরিটেজ ভবন

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০১:২৯

সংস্কারের অভাবে ঝিনাইদহে দুইটি ব্রিটিশ হেরিটেজ ভবন নষ্ট হচ্ছে। ভবনগুলোর অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। দরজা ও জানালা চুরি করছে দুর্বৃত্তরা। এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস-ঐতিহ্য। হেরিটেজ ভবন দুইটি হলো—খালিশপুর নীলকুঠি ও কোটচাঁদপুর সাহেব বাড়ি। রাতের বেলায় নির্জন নীলকুঠির পাশ দিয়ে যেতে গা ছমছম করে।

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, খালিশপুর নীলকুঠির সঙ্গে নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়নের ভয়ংকর ইতিহাস জড়িত আছে। ১৮০০ সালের প্রথম দিকে বিলেত থেকে ব্রিটিশরা এসে কপোতাক্ষ তীরে খালিশপুরে কুঠি স্হাপন করে নীল চাষ শুরু করে। এ কুঠিটির দোতলা ভবন এখনো খাড়া আছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ঝিনাইদহ যশোর অঞ্চলে ৬৭টি নীলকুঠি ছিল। অন্যগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। কোনোটির চিহ্ন নেই। প্রতিটি নীলকুঠিতে অত্যাচারের কাহিনি জড়িয়ে আছে। নীলের ব্যবসায় মন্দা ও চারিদিকে নীল বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠলে নীলকর সাহেবরা পাততাড়ি গুটাতে থাকে। খালিশপুরের কুঠিয়াল সাহেব কুঠি ও অন্যান্য সম্পত্তি মেদিনীপুরের এক জমিদারের কাছে বিক্রি করে বিলেতে চলে যান। জমিদার এখানে কাচারি স্হাপন করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর জমিদার এই দেশ ত্যাগ করেন। তবে কাচারির কাজ চলত। সরকার জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ করলে কুঠি ও জমি সরকারের মালিকানায় আসে। কুঠিবাড়ির চারদিকে ছিল আম ও লিচুবাগান। পুরোনো গাছপালা নষ্ট হয়ে গেছে। সংস্কারের অভাবে কুঠির অবকাঠামো ভেঙে পড়ছে। কয়েক বছর আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে রেখেছে। কুঠিবাড়িকেন্দ্রীক একটি ইকোপার্ক স্হাপনের উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। সেটিও থেমে আছে।

অন্যদিকে, কোটচাঁদপুর সাহেব বাড়ি একটি হেরিটেজ ভবন। ইতিহাস থেকে জানা যায়, স্কটল্যান্ড থেকে ব্যবসা করতে আসেন সিনোলাব ম্যাকলিউড। তার তিন ছেলে ছিল, এডওয়ার্ড জি ম্যাকলিউড, জেমস ম্যাকলিউড ও হ্যারল্ড ম্যাকলিউড। কোটচাঁদপুরের উন্নয়নে এ পরিবারের যথেষ্ট অবদান ছিল। বড় ও ছোট ভাই দুটি বড় বাড়ি নির্মাণ করেন। বড় ভাইয়ের বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। সাহেবরা বাড়ি বিক্রি করে দেশে ফিরে যান। স্হানীয় এক জমিদার এসব সম্পদ কিনে নেন। পরে ছোট সাহেবের বাড়িতে কোটচাঁদপুর হাই স্কুল স্হাপিত হয়। দোতলা বাড়িটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে। তবে সংস্কারের অভাবে নষ্ট হচ্ছে। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা বলেন, খালিশপুর নীলকুঠি এখন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সম্পদ। এটি সংস্কার করা হবে।