সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্নের আশঙ্কা
মো. ছালাহউদ্দিন, মনপুরা (ভোলা) সংবাদদাতা
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা উপজেলা সদর হাজিরহাট বাজার থেকে উত্তর পাশের আ. লতিফ ভূইয়া বাড়ী সংলগ্ন সংযোগ সড়কটি যেকোনো মুহূর্তে নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে সংযোগ সড়কটি নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। গত বর্ষা মৌসুমে মেঘনার তীব্রতায় ঢেউয়ের আঘাতে সংযোগ সড়কটির নিচ থেকে মাটি সরে গিয়েছে। সংযোগ সড়কটি বিচ্ছিন্ন হলে বন্ধ হয়ে যাবে দুইটি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়বে হাজির হাট ইউনিয়নের সোনারচর ও চরযতিন গ্রামের ১০ সহস্রাধিক মানুষ। সংযোগ সড়কটি থেকে মেঘনার দূরত্ব রয়েছে ২০মিটার।
সংযোগ সড়কটি ভেঙে গেলে মেঘনার জোয়ারের পানি প্রবেশ করে পানিবন্দি হয়ে পড়বে দুইটি গ্রামের মানুষ। হুমকির মুখে পড়বে সোনারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মসজিদ মন্দির। চরম দুর্ভোগে পড়বে স্কুলের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা। প্রতিদিন চরযতিন ও সোনারচর গ্রাম থেকে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শতাধিক শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে আসা-যাওয়া করে। সংযোগ সড়কটি বিচ্ছিন্ন হলে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে এইসব শিক্ষার্থীদের। প্রতিদিন শতশত মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হবে। এ ছাড়াও তীব্র ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে হাজিরহাট ইউনিয়নের নাইবেরহাট চীেধুরী বাজার পূর্বপাশের বেড়িবাঁধ, সোনারচরের রাস্তার মাথা, দাসেরহাট। উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের কোরেজডেম, মাস্টারহাট। দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রাম ও পূর্ব ও দক্ষিণপাশের বেড়িবাঁধ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম বলেন, সরেজমিনে গিয়ে ভাঙনকবলিত এলাকার চিত্র তুলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করব। এই মুহূর্তে ডাম্পিং বা পাইলিং করার কোনো ব্যবস্থা নেই। নদী ভাঙন রোধ প্রকল্প তৈরির জন্য চেষ্টা করব।
উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি সেলিনা আকতার চৌধুরী বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপির চেষ্টায় নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। মনপুরা নদী ভাঙন রোধ প্রকল্পের কাজ চলছে। তীব্র ভাঙন এলাকায় স্পট নির্ধারণ করে আমরা দ্রুত প্রকল্প তৈরির জন্য চেষ্টা করব। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীর সঙ্গে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
