ফিল্টারের যত্ন নেবেন যেভাবে

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:৩৩

পানির অপর নাম জীবন হলেও, দূষিত পানির অপর নাম মরণ হতে পারে। খাবার পানি বিশুদ্ধ হওয়া কতটা জরুরি তার অভিজ্ঞতা আমাদের সবারই হয়েছে। আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন। শরীরে বিশুদ্ধ পানির অভাবে ডায়রিয়া, জন্ডিস, টাইফয়েডের মতো মারাত্বক নানা রকম রোগ হতে পারে। পানি ফুটিয়ে খেলে এসব রোগের প্রকোপ অনেকটাই কমে যায়। তবে নিয়মিত পানি ফোটানোর ঝামেলাও অনেক।

সহজে পানি বিশুদ্ধ করার জন্য আমরা সাহাঘ্য নিতে পারি ফিল্টারের। বাজারে মূলত দুই ধরনের ফিল্টার পাওয়া যায়। যার একটি সিরামিক ফিল্টার এবং দ্বিতীয়টি সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত রিভার অসমোসিস ফিল্টার। বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ সিরামিক ফিল্টার ব্যবহার করে থাকে। ফিল্টারে স্বাভাবিক, ঠান্ডা ও গরম— তিন ধরনের পানি পাওয়া যায়। এসব কারণে এখন ঘরে ঘরে পানির ফিল্টারের ব্যবহার দেখা যায়। যে যন্ত্রটি আমাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা দেয় তার নিয়মিত যত্ন করা উচিত। নইলে কার্যক্ষমতা হারাতে পারে ফিল্টার।

ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্নই ফিল্টার থেকে আপনি কতটুকু বিশুদ্ধ পানি পাবেন সেটা নির্ভর করে ফিল্টারটি নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় কি না, তার ওপরে। কয়েক ধাপে ক্ষতিকারক জীবাণু ধ্বংস করে এটি পানি বিশুদ্ধ করে। বাজারে পানি বিশুদ্ধ করতে ফুড গ্রেড প্লাস্টিক ও কাচের তৈরি নরমাল ওয়াটার ফিল্টার এবং ইলেকট্রনিক ওয়াটার ফিল্টার কিনতে পাওয়া যায়। এসব ফিল্টারের কোনো কোনোটি পানির ময়লাই শুধু দূর করে না, বরং পানিতে থাকা ক্ষতিকর বিভিন্ন জীবাণু আর গন্ধও দূর করতে সক্ষম। এ ছাড়া ফিল্টারগুলো পানিতে মিশে থাকা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, বিষাক্ত কেমিক্যাল, ভারী ধাতু, মরিচা, সিসাসহ অন্যান্য দূষিত পদার্থ সম্পূর্ণরূপে দূরীভূত করতে পারে।

পানি ব্যবহার না হলেও ফিল্টারের পানি প্রতিদিন বদলানো উচিত। তাই প্রতিদিন আপনার যতটুকু পানির প্রয়োজন হয়, ঠিক ততটুকু পানিই ফিল্টার দিন। পানিতে কোনোভাবেই শ্যাওলা জমতে দেওয়া যাবে না। ফিল্টারগুলোতে সাধারণত কয়েকটি পার্ট বা অংশ থাকে। একেক অংশের একেক কাজ করে থাকে। ফিল্টারের সিরামিক সাধারণত বেশি ময়লা হয়। সাত দিন পর পর ফিল্টারের সিরামিক পরিষ্কার করা উচিত। বাজার করার সময় যে নেট ব্যাগগুলো পাওয়া যায়, সেগুলো দিয়েই সিরামিক পরিষ্কার করতে পারেন। এখন সিরামিক কেনার সময় এক ধরনের শিরীষ কাগজ প্যাকেটের মধ্যেই দেওয়া থাকে। এতে সিরামিক ময়লা হলে শিরীষ কাগজ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করা যায়। এটা দিয়েও পরিষ্কার করতে পারেন। ফিল্টারের ভেতর কখনোই সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধোয়া যাবে না, একটা বাটিতে ডিশ ওয়াশিং লিকুইড গুলিয়ে নেট দিয়ে হালকা করে ভেতরটা পরিষ্কার করে নিয়ে তারপর পানি দিয়ে ধুতে পারেন। তবে বাইরের অংশ সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধোয়া যাবে। ফিল্টারে কখনোই গরম পানি ঢালা যাবে না। যেই ফিল্টারই কিনুন না কেন, কেনার আগে নিয়মাবলি ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে। ইলেকট্রনিক ফিল্টার ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। ফিল্টার পদ্ধতির ভিন্নতা থাকতে পারে। সব ফিল্টারের সময়মতো কার্টিজ বদলানো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পানিতে কেমন ময়লা আসে, তার ওপর ভিত্তি করে কার্টিজ বদলাতে হয়। তা ছাড়া এমনিতেই অন্তত ছয় মাস পরপর কার্ট্রিজ বদলে ফেলুন। ফিল্টারে মাইক্রো ফাইবার ম্যাশ বা ছাঁকনিটা পারলে প্রতি সপ্তাহে পরিষ্কার করতে হবে এবং কার্ট্রিজের সঙ্গে এই ছাঁকনিটাও বদলান অন্তত বছরে দু’বার।

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিনের কাজ সহজ করতে ফিল্টার আমাদের সংসারের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পণ্য। এটি ব্যবহার করাও সহজ। পানি ফুটানোর ঝামেলা থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। আর বেশ কিছুটা সময়ও সাশ্রয় হয়। নিরাপদ পানি পান করুন আর সুস্থ থাকুন, সঙ্গে পরিবারের সবার সুস্থতাও নিশ্চিত করুন

 

ইত্তেফাক/কেকে