কে এম ফজলুর রহমান, ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
ভাণ্ডারিয়া বন্দর বাজারসহ উপজেলার অন্য ৬ ইউনিয়নের বিভিন্ন ছোটখাটো হাট-বাজার, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, রাস্তা সংলগ্ন বহু দোকানে যত্রতত্র বিক্রি করা হচ্ছে নানা কোম্পানির এলপি গ্যাস সিলিন্ডার।
সম্প্রতি ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরের ঐতিহ্যবাহী ভাণ্ডারিয়া বাজারে এক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. নাজমুল আলম বিভিন্ন দোকানে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা বাসাবাড়িতে ব্যবহারের জন্য গ্যাস সিলিন্ডার দেখে দোকানিদের কাছে এগুলো বিক্রির লাইসেন্স দেখতে চাইলে তা দেখাতে ব্যর্থ হন দোকানিরা। এ সময় একটি বড় প্লাস্টিকের ফার্নিচার ও স্যানিটারি দোকানের মালিক ট্রেড লাইসেন্স দেখাতে পারলেও গ্যাস বিক্রির লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। বাজার ঘুরে দেখা যায়, মুদি মনোহরি, চা, পান, সিগারেট, ইলেক্ট্রনিক্সসহ বিভিন্ন দোকানে অবাধে এসব গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। এ দিকে অভিযোগ রয়েছে, এক দল ব্যবসায়ী অনেক বাসাবাড়ির পুরাতন গ্যাস সিলিন্ডার স্বল্পমূল্যে সংগ্রহ করে সেগুলোর উপর নতুন রঙ করে গ্যাস ভর্তি করে পুনরায় বাজারজাত করেন। এতে অনেক সময়ে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে বলেও জানান অনেক দোকানি। জানা সত্ত্বেও তারা কেন এগুলো বিক্রি করেন এমন প্রশ্নের জবাবে তাদের বক্তব্য তারা যেভাবে পান, বিক্রি করেন। এগুলোর ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
তবে ভাণ্ডারিয়ায় যমুনা কোম্পানির গ্যাসের ডিলার মো. রিয়াজ মাহাম্মুদ সজীব জানান, এ উপজেলায় তিনি ছাড়াও নদমুলায় তাহের মিয়া বসুন্ধরা এবং চরখালিতে মো. মিলন নাভানা গ্যাসের ডিলার। পুরাতন গ্যাস সিলিন্ডারের বিষয়ে তিনি জানান, এগুলোতে একটি নির্ধারিত ডেট থাকে। সে ডেট ওভার হয়ে গেলে সেগুলো বাতিল করা হয়।
বৃহস্পতিবার পিরোজপুর জেলা ফায়ার স্টেশনে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স ইন্সপেক্টর মো. রেদওয়ান রাকিব ফোনে জানান, ভাণ্ডারিয়ার ইটভাটা, হাসপাতাল এবং প্লাস্টিক ফার্নিচারসহ ছোটখাটো দোকানের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৬৪টির লাইসেন্স রয়েছে। আর ৪০টির ওপরে এলপি গ্যাসের ডিলার রয়েছে, তাদের লাইসেন্স দেয় বিস্ফোরক অধিদপ্তর। তাদের হিসেব আমাদের কাছে নেই।
সম্প্রতি পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাত হোসেন জানান, এলপি গ্যাস এবং পেট্রোলিয়াম জাতীয় দাহ্য পদার্থ বিক্রেতাদের লাইসেন্সের আওতায় আনা, জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নোটিস প্রদান এবং আইন অমান্যকারীদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রতি মাসে কম করে হলেও জেলার সকল উপজেলায় ২-৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছি। এই নির্দেশনা অনুসারে ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে।
