যমজ কন্যা শিশু হত্যার রহস্য উন্মোচন

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৯:৪৪

খুলনায় মায়ের হাতেই আড়াই মাস বয়সী যমজ শিশু কন্যা মণি-মুক্তার প্রাণ গেছে বলে জানিয়েছেন তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল আলম। পুলিশের জেরার মুখে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন নিহত মনি-মুক্তার মা কানিজ ফাতেমা কনা।

ওসি জহুরুল আলম জানান, যমজ দুই শিশু নিহতের ঘটনায় গত শুক্রবার যমজ শিশুর বাবা মাসুম বিল্লাহ মামলা করেছেন। মামলায় স্ত্রী কানিজ ফাতেমা কনাকে তিনি আসামি করেছেন।

ওসি আরও জানান, সন্তান জন্মের কিছু দিন আগে থেকেই কনা বাবার বাড়িতে থাকতেন। সেখানে যমজ কন্যা শিশুর জন্ম হয়। তাদের নাম রাখা হয় মনি ও মুক্তা। তবে জন্মের সময় তাদের ওজন কম ছিল। এ নিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে কনার মনে শুরু হয় দুশ্চিন্তা। সন্তানসহ তাকে বাপের বাড়িতে রেখে দেওয়ায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। আর এ নিয়েই তিনি হত্যা করেন যমজ কন্যাকে।

যেভাবে খুন করা হয় যমজ শিশুদের

প্রতিদিনের ন্যায় বৃহস্পতিবার রাতে খাবার খেয়ে মনি-মুক্তাকে নিয়ে ঘুমাতে যান কনা। কিন্তু তারা কান্নাকাটি করছিল। প্রথমে কনা তাদের দুধ খাওয়ান। এরপরও তারা থামছিল না। রাত আড়াইটার দিকে বাচ্চা দুটির মুখে চড় মারেন তিনি। পরে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর কি করবেন ভেবে পাচ্ছিল না কনা। তাই নাটক সাজানোর জন্য বাচ্চা দুটিকে বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দেন তিনি। যমজ শিশুদের পুকুরে ফেলে দেওয়ার পর ঘরের দরজা খুলে শুয়ে থাকেন কণা।  এর ঘণ্টা দেড়েক পর ভোর চারটার দিকে চিৎকার শুরু করেন তিনি। তার চিৎকারে পাড়ার লোকজন তাদের বাড়িতে জড়ো হয়। এরপর সবাই শিশুদের খুঁজতে থাকেন। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে মনি-মুক্তার লাশ উদ্ধার করেন নানী শরিফা খাতুন ও মামা নূর আলম।

হত্যার রহস্য উদ্ধার হয় যেভাবে

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেরখাদা থানার এসআই মো. এনামুল হক ওই পরিবারের প্রতিটি সদস্যর ওপর নজর রাখেন। পরে শুক্রবার  বিকালে কনা, তার বাবা ও মাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে কনা অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন। এক পর্যায়ে কনা যমজ শিশু হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন।

ইত্তেফাক/ইউবি