সিলেটের ‘গোয়ালগাদ্দা’ শিম যাচ্ছে বিদেশে 

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৬:১০

সিলেটের ‘গোয়ালগাদ্দা’ শিম দেশ-বিদেশে প্রসিদ্ধ। এই জাতের শিম লন্ডন, আমেরিকাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে।

লন্ডনে বসবাসরত সিলেটের সৈয়দ নিয়াজ হক জানান, লন্ডনের বাজারে বিশেষ করে বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় গোয়ালগাদ্দা শিমের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এই শিম প্রতি কেজি ৪-৫ পাউন্ডে বিক্রি হয়।

সবজি ব্যবসায়ী আবুল ফজল জানান, প্রতি হাটবারে গোলাপগঞ্জ বাজার থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কেজি শিম এজেন্সির মাধ্যমে ঢাকায় পাঠান তিনি। সেখান থেকে শিমগুলো দেশের বাইরে রফতানি হয়। আরও কয়েকজন এখান থেকে শিম কিনে ঢাকায় পাঠান। পরে সেগুলো বিদেশে যায়।

গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের বিদাইটিকর গ্রামের আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি ৭ বিঘা জমিতে এবার শিম চাষ করেছেন। ফলনও ভাল হয়েছে। ধানের চেয়ে শিম চাষ লাভজনক। এই শিম সারাবছর চাষ করা যায়।তাই এখানকার কৃষকরা শিম চাষে ঝুঁকছেন।  

শিম খেত পরিদর্শন করছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

‘গোয়ালগাদ্দা’ শিমটি দেখতে একটু বড় ও চেপটা। খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। পুষ্টিগুণও বেশি। বেলে ও দোআঁশ মাটিতে শিমের ফলন ভালো হয়। প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় এই শিম ব্যাপক হারে চাষ হচ্ছে।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিছুজ্জামান ইত্তেফাককে জানান, সিলেটর গোয়ালগাদ্দা শিম ইউরোপে যাচ্ছে। আনছে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা। বীজ বপনের ৫০-৫৫ দিনের মধ্যে ঘরে ফলন তোলা সম্ভব।  গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে এবার শিম চাষ হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। একেকজন কৃষক চার থেকে পাঁচ বিঘা জমিতে শিমের চাষ করেছেন। প্রতি সপ্তাহে তারা ৪০০ থেকে ৬০০ কেজি শিম বিক্রি করেন। স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয় এসব শিম। সেখান থেকে পাইকাররা শিম কিনে বিদেশে রফতানি করেন।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. মো. শহীদুল ইসলাম জানান, এই শিম এক সময় শীতের ফসল ছিল। কিন্তু এখন সব মৌসুমেই চাষ সম্ভব। সারাবছর চাষ উপযোগী সিকৃবি শিম-১, সিকৃবি শিম-২, বারি শিম-১, গোয়ালগাদ্দা শিমসহ ফরাস বিচি ও বরবটির জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এসব জাতের মাধ্যমে কৃষকরা তাদের জীবনমান উন্নত করতে পারবে।  

 

 

ইত্তেফাক/ইউবি