গরমকালে সুপেয় পানির সংকট

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৩৯

মো. সাইদুর রহমান

 

গবেষণা প্রতিষ্ঠান টিআইবি একটি বিস্ফোরক তথ্য দিল—রাজধানী ঢাকার ৯১ শতাংশ গ্রাহকই ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি ফুটিয়ে খান। এতে গ্যাস বাবদ বছরে আমজনতার খরচ হয় ৩৩২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ব্যস, এতেই মেজাজ বিগড়ে গেল ওয়াসার এমডির। তিনি টিআইবির রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে বললেন, আমাদের পানি এক শ ভাগ বিশুদ্ধ ও সুপেয়। তবে তিনি তিন রকমের পানি খান—ফোটানো বাসার পানি, শান্তি বোতলের পানি এমনকি ট্যাপের পানিও। কিন্তু তিনি বাধ সাধলেন অন্য জায়গায়। যখন ওয়াসার পানি দিয়ে শরবত বানিয়ে একজন গ্রাহক তাঁর উদ্দেশে পরিবেশন করতে চাইলেন, তখন তিনি তা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করলেন। এতে কি প্রমাণিত হয়, ওয়াসার পানি শতভাগ নিরাপদ?

এই ঘটনার আরেক অর্থ হতে পারে যে, সব মানুষ সমান নয়। আমজনতার জন্য যা শতভাগ বিশুদ্ধ ও সুপেয়, তা অসাধারণ মানুষদের জন্য অশুদ্ধ! যে গ্রাহক ওয়াসার পানি দিয়ে শরবরত বানিয়ে এমডিকে খাওয়াতে চেয়েছিলেন—তিনি পুরাতন ঢাকার জুরাইনের বাসিন্দা। নাম মিজানুর রহমান। তাঁর এই বুদ্ধিদীপ্ত ও ব্যতিক্রমী প্রতিবাদের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ। পুরাতন ঢাকাসহ রাজধানীর অনেক স্থানেই ওয়াসার পানির মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। ওয়াসা হয়তো শতভাগ বিশুদ্ধ পানি উত্পাদন করে, কিন্তু তা যথার্থ মানে সরবরাহ করে না বা করতে পারে না। কেননা ওয়াসার অনেক পাইপ লাইনই জরাজীর্ণ ও পুরনো। গ্রাহক নিশ্চয়ই তার পানির ট্যাঙ্ক নিয়মিত পরিষ্কার করবেন। তবে ওয়াসাকে গ্রাহক পর্যন্ত বিশুদ্ধ পানি অবশ্যই সরবরাহ করতে হবে। এজন্য পাইপ লাইনগুলি সংস্কারসহ যা যা করা দরকার তা করা প্রয়োজন।

ওয়াসার পানি একেবারেই খারাপ—এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার অবকাশ নেই। তাহলে প্রশ্ন উঠবে, লাখ লাখ মানুষ জীবন ধারণ করে আছেন কিভাবে। তবে গ্রীষ্মকাল এলেই ঢাকা শহরে পানি সংকট দেখা দেয়। পানির মান নিয়েও দেখা দেয় হাজারটা প্রশ্ন। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ একান্ত কাম্য।

ঢাকা