জবির আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউট সম্পর্কে জানে না অনেকেই

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৮:০৩

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের (আইএমএল) আসন সংখ্যা মাত্র ৪০। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে এবারের ভর্তি কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে  থাকলেও এই ইন্সটিটিউটে এখন পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে মাত্র ২৩ জন শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্সটিটিউটে চাহিদা সংকট এবং শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ার আগ্রহ কম থাকার কারণকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অজ্ঞতাই একমাত্র কারণ বলে মনে করছেন বিভাগীয় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

তারা বলছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটে মাত্র তিন বছরের পথচলার পরিধি হওয়ায় নেই সেশনজট। তবে এই বিষয়ে বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা থাকার কারণে অনেকেই ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এতো কম।

আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তারা কমবেশি জানি যে এই ইনস্টিটিউটের অধীনে একাধিক বিভাগ ও ভাষা শিক্ষা থাকতে পারে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের অধীনে একটি মাত্র ভাষা চলমান। যার নাম ডিপার্টমেন্ট অব ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ। এই সাবজেক্ট মূলত ইংরেজিতে দক্ষ বানাবে। এর প্রয়োজনীয়তা কখনোই কম না। এছাড়া স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কিংবা বড় বড় প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি ভাষার ট্রেইনার হিসেবে বেশ চাহিদা থাকবে এবং লিঙ্গুইস্ট হওয়ার সুযোগ তো আছেই। এই সাবজেক্টের সিলেবাস অত্যন্ত সুন্দর। তবে আমাদের এই ইন্সটিটিউটে বাংলা বা অন্যান্য ভাষা নিয়ে চর্চা বা গবেষণার সুযোগ এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি।

তারা বলেন, এই সাবজেক্টের অন্যতম সুবিধা  হলো ঘরোয়া পরিবেশে শেখা। আর মোটামুটি একটা জানাশোনা থাকলে অনায়াসে আপনি ক্লাস করে সিলেবাস শেষ করতে পারবেন। আবার চাইলে বিষদ আকারে রিসার্চ করে জ্ঞানের ভান্ডার পরিপূর্ণ করতে পারবেন। আর সাহিত্যের যে অংশগুলো আমরা পড়ি তাতে মোটামুটি সব ক্যাটাগরিই কভার হয়ে যায়। তবে আরো বেশি পড়া গেলে হয়তো অনেকের কাছে সাবজেক্ট আরও ইন্টারেস্টিং হতো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. প্রতিভা রাণী কর্মকার বলেন, এই সাবজেক্টটা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একেবারেই নতুন। অভিভাবকরা অনেক সময় না বুঝে গুরুত্ব কম দেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনুপাত ও শিক্ষাসুলভ পরিবেশে আমাদের কার্যক্রম বেশ ভালো চলছে। কিছু দুর্বলতা ছিল, প্রশাসনের সহায়তায় তা সমাধান হয়েছে। তবে আমাদের কোনো ব্যাচ এখনো বের হয়নি, তাই কর্মক্ষেত্রে তারা কেমন হবে তা দেখার অপেক্ষায় আছি।

আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের পরিচালক খন্দকার মোন্তাসির হাসান বলেন, আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। পার্থক্য শুধু ইংরেজি সাহিত্য এবং ইংরেজি ভাষা। বাস্তবিক জীবনে এই বিষয়ের গুরুত্ব অনেক বেশি। যেকোনো জায়গায় ইংরেজি ভাষার গুরুত্বের কোন কমতি নেই। আমাদের শিক্ষার্থীরা কোথাও কম সুযোগ পাবে, এমনটা ভাবা ভুল। পূর্বে আমাদের কিছু সংকট ছিল, কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশনায় তা পরিপূর্ণ হয়েছে। তবে নতুন বিভাগ হওয়ার কারণে অনেকেই এখনো আমাদের সম্পর্কে জানে না। ধীরেধীরে এর কলেবর আরও বাড়বে।

ইত্তেফাক/এসটিএম