বড়লেখায় পাকা ঘর পেলো ৪৬ পরিবার

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৪২

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

কোনোদিন টিনের বেড়া, আর পাকা করা ভিটার একটি ঘর হবে, তাতে বসবাস করতে পারবেন— এ কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের পূর্ব দৌলতপুর গ্রামের লাল বিবি। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে ‘যার জমি আছে ঘর নাই, তার নিজের জমিতে’ গৃহ নির্মাণের আওতায় তিনি একটি সেমি-পাকা ঘর পেয়েছেন। শুধু লাল বিবি নন, তাঁর মতো বড়লেখা উপজেলার আরো ৪৫টি হতদরিদ্র পরিবার  পেয়েছে মাথা গোঁজার ঠাঁই।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ঘর নির্মাণ কাজে ব্যয় হয়েছে এক লাখ টাকা করে। একটি শৌচাগার, পাকা ভিটা ও বারান্দা, টিনের বেড়াসহ থাকার ঘর। প্রথম ধাপে উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নে ১৩টি, দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নে ১৬টি, বড়লেখা সদর ইউনিয়নে ১২টি, নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নে দুটি ও দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়ন এলাকায় তিনটি পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসন এই নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করেছে।

বড়লেখা সদর ইউনিয়নের সোনাতোলা গ্রামের অনিতা দাসের সাথে সরেজমিনে গত বুধবার কথা হয়। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালানো এই বিধবা নারী মাথা গোঁজার একটু ঠাঁই পেয়ে দারুণ খুশি। ঘর পেয়ে অনিতার মতো আনন্দিত একই বাড়ির দিনমজুর দুলন দাসও। মহদিকোনা গ্রামের মত্স্যজীবী হাজির আলী বলেন, ‘মাছ বিক্রি করে সংসার চালাই। আমার জন্য একটি পাকা ঘর বানানো অনেক কঠিন। সরকার ঘর দেওয়ায় আমার কষ্টটা ঘুচেছে।’

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. উবায়েদউল্লাহ খান বলেন,‘সরেজমিনে তথ্য নিয়ে সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে দরিদ্র পরিবার বাছাই করা হয়। যাদের বাছাই করা হয়, তাদের ঘর নির্মাণের সামর্থ্য ছিল না। প্রথম ধাপের ঘরগুলোতে ভালো কাজ হয়েছে। শিগগিরই পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কাছে ঘরের চাবি হস্তান্তর করবেন।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান বলেন, ‘৪৬টি ঘরের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এবছর নতুন আরো ২২৩টি ঘরের বরাদ্দ পেয়েছি। উপকারভোগীদের বাছাই করে তালিকা তৈরির কাজ চলছে। বাছাই শেষ হলে দ্রুত সেগুলোতে কাজ শুরু করা হবে।’