মুহাম্মদ নিজামউদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
কর্ণফুলি নদীর দক্ষিণ তীরে পানি সরবরাহের জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসা ভান্ডারজুরি পানি সরবরাহ নামে একটি পানিশোধনাগার প্রকল্প গ্রহণ করেছে। কিন্তু প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। গত বুধবার ওয়াসার বিশেষ বোর্ড সভায় প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো ও ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদনের পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। জানতে চাইলে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, ‘ডিপিপির পরিবর্তন করায় প্রকল্পের পরিধিও বেড়েছে। ফলে ব্যয় বাড়াতে হচ্ছে।’
ওয়াসা সূত্র জানায়, ২০১১ সালে প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় ব্যয় ধরা হয়েছির এক হাজার ৫৬ কোটি টাকা। এখন ব্যয় বাড়িয়ে এক হাজার ৩৫৬ কোটি ধরা হয়েছে। কোরিয়ান সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। গত ২০১৬ সালে ৫ জানুয়ারি প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়।
প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ঠিকাদার নিয়োগের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তাইইয়ং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড নামে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজ দিতে দাতা সংস্থাসহ প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) অনুমোদন দিয়েছে।
প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে দৈনিক ৬০ মিলিয়ন লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন পানি শোধনাগার, কনভয়েন্স, ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন পাইপলাইন এবং দুটি রিজার্ভার নির্মাণ। প্রকল্পের এজন্য প্রায় ৫০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে শোধনাগার নির্মাণের জন্য লাগবে প্রায় ৪১ একর জায়গা। পাশাপাশি বাকি জায়গা রিজার্ভার ও পাইপলাইন বসাতে ব্যবহার করা হবে।
ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুব আলম ইত্তেফাককে বলেন, ‘ওয়াসার বোর্ড সভায় অনুমোদিত প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ এখনো নির্ধারণ চূড়ান্ত হয়নি। ইতোমধ্যে জায়গার দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। তাই ব্যয় বাড়াতে হচ্ছে। তিন ধাপে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। প্রথম ধাপে ভান্ডারজুরিতে শোধনাগার নির্মাণ, দ্বিতীয় ধাপে কনভয়েন্স, ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন পাইপলাইন নির্মাণ হবে। শেষ ধাপে পটিয়া ও কেইপিজেডে রিজার্ভার নির্মাণ করা হবে।’
প্রকল্প কর্মকর্তা জানান, ওয়াসার বাস্তবায়িত সব প্রকল্পের পানি সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কর্ণফুলি নদীর দক্ষিণ তীর শিল্পায়নের ব্যাপক প্রসার ঘটছে। বিভিন্ন ভারী শিল্প কারখানা নির্মিত হচ্ছে। আবার নলকূপ থেকে যেসব পানি পাওয়া যাচ্ছে তা অতিমাত্রায় লবণাক্ততা রয়েছে। এতে চালু শিল্পকারখানায় বাইরে থেকে পানি এনে ব্যবহার করতে হচ্ছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে চট্টগ্রাম ওয়াসার তিনটি পানি শোধনাগার চালু রয়েছে। দৈনিক ১৪ কোটি লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন আরো একটি পানি শোধনাগার নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
