চট্টগ্রাম অফিস
বাংলাদেশ মত্স্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) কার্যাদেশে এফএমসি ডকইয়ার্ড নির্মিত মাল্টি চ্যানেল স্লিপওয়ের যাত্রা শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। দুই চ্যানেল বিশিষ্ট এই স্লিপওয়েতে মাসে ৪টি করে বছরে কমপক্ষে ৪৮টি ট্রলার/জাহাজ মেরামত ও ডকিং-আনডকিং সম্ভব হবে। গত বছরের জুন মাসে সম্পন্ন হওয়া প্রকল্পটিতে ব্যয় হয়েছে ৪২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। বিএফডিসির নিজস্ব ১ দশমিক ৭২ একর জমিতে সরকার থেকে স্বল্প সুদে গৃহীত ঋণে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। ছোট ও মাঝারি সাইজের ফিশিং ট্রলার, টাগ, বার্জের ডকিং-আনডকিং, নির্মাণ এবং মেরামত সুবিধা নিয়ে স্থাপিত এই স্লিপওয়ের অবস্থান কর্ণফুলির দক্ষিণ পাড়ে।
প্রকল্পটি পরিচালিত হবে বিএফডিসির মাল্টিচ্যানেল স্লিপওয়ে ডকইয়ার্ড ইউনিট নামে। এখানে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে একজন মহাব্যবস্থাপক, একজন নির্বাহী প্রকৌশলী, একজন সহকারী প্রকৌশলী, ৫ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীসহ প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের প্রশিক্ষণ/ওরিয়েন্টেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পটির দুটি স্লিপওয়ের দৈর্ঘ্য ২০০ মিটার, এখানের উইঞ্চ রয়েছে ১টি, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন ১টি, হেড জেটি ১টি, ডলফিন জেটি আছে ৬টি, প্লেট বেন্ডিং মেশিন ১টি, প্লেট কাটিং মেশিন ১টি, গ্যান্ট্রিক্রেন ১টি, ক্রাডল ট্রলি ২৪টি, ক্যাপস্টেন ও বোলার্ড রয়েছে ১৮টি। প্রকল্পটির মাধ্যমে মত্স্য আহরণ খাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৫৮৪ জন দক্ষ-অদক্ষ জনবলের কর্মসংস্থান হবে।
উদ্বোধনের পর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে প্রকল্পের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রইছউল আলম মণ্ডল। প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। পরিচিতিতে বলা হয়, বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বড় ডকইয়ার্ডগুলো বিদেশি জাহাজ তৈরিতে ব্যস্ত থাকায় ও মেরামত ব্যয় বেশি হওয়ায় অনেক জাহাজ, ফিশিং ট্রলার, টাগ, বার্জ ইত্যাদি সময়মত ডকিং-আনডকিং ও মেরামত সুবিধা পায় না। ফলে মত্স্য আহরণ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক খাত বিঘ্নিত হয়। এ অবস্থায় বিএফডিসির এই মাল্টিচ্যানেল স্লিপওয়ে এখাতে বিশেষ অবদান রাখবে।
