সারিয়াকান্দির যমুনা নদীতে বগুড়া-জামালপুর নৌপথে চলাচলের সুবিধার জন্য সি-ট্রাক চালু করা হলেও তা আর স্থায়ী হলো না। নাব্য সংকটসহ বিভিন্ন কারণে এই সি-ট্রাকটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে নৌকায় চলাচল করতে গিয়ে যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বগুড়া-জামালপুর নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পারাপারের জন্য গত বছরের ১২ আগস্ট নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সি-ট্রাক চলাচল উদ্বোধন করেন। বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপনায় শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত নামের এই সি-ট্রাকটি চালু করা হয়। কিন্তু পুরোনো ইঞ্জিনের কারণে ২৩ আগস্ট তা প্রথম দফায় বিকল হয়। পরে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড থেকে কারিগরি দল ইঞ্জিন সারানোর পর ৩১ আগস্ট এটি পুনরায় চালু হয়। এক মাস না যেতেই ২৩ সেপ্টেম্বর যাত্রী নিয়ে মাঝনদীতে আবার বিকল হয় সি-ট্রাকটি।
বিআইডব্লিউটিসির চার্টার্ড ফেরি সেবার ইজারাদার জাহিদুর রহমান দাবি করেন, ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় সি-ট্রাক চলাচল দুই দফা বন্ধ থাকে। পরে বিআইডব্লিউটিসি তা মেরামত করলেও নাব্য সংকটের কারণে তা আর চালু করা সম্ভব হয়নি। জাহিদুর রহমান আরো দাবি করেন, এই নৌপথে সি-ট্রাক চলাচলে বড় বাধা যাত্রী পারাপারে টোল আদায়ের নামে ঘাটের ইজারাদারের বেপরোয়া চাঁদাবাজি। ইচ্ছেমতো টোল আদায়ের কারণে সি-ট্রাক ইজারা নিয়ে লাগাতার লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। কারণ, ঘাটে যাত্রী পারাপারে সরকারনির্ধারিত টোলের হার মাথাপিছু সাত টাকা, অথচ ঘাটের ইজারাদারকে দিতে হচ্ছে মাথাপিছু ৪০ টাকা। সি-ট্রাকে একজন যাত্রী পারাপারে ভাড়া আদায় হয় ১০০ টাকা। ৪০ টাকা ইজারাদারকে দেওয়ার পর ৬০ টাকায় খরচই ওঠে না। এই পরিস্থিতিতে গত বুধবার যমুনা নদীর মাদারগঞ্জ ঘাট থেকে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সি-ট্রাক প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। বগুড়া-জামালপুর নৌপথে সি-ট্রাক চলাচল বন্ধের সুযোগে ইঞ্জিনচালিত নৌযানের যাত্রীদের কাছ থেকে চার-পাঁচ গুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কালীতলা খেয়াঘাট থেকে যমুনার ওপারের জামালপুরের মাদারগঞ্জ (জামথল) রুটে যাত্রী ও পণ্য পারাপারে প্রতিদিন গড়ে ১০০ ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল করে। এ নৌপথের কয়েকজন যাত্রীর অভিযোগ, কালীতলা ঘাট থেকে ওপারের জামথল খেয়াঘাটে নদী পারাপারে স্বাভাবিক সময়ে নৌকাভাড়া জনপ্রতি ৪০ টাকা। অথচ ইজারাদারের যোগসাজশে যাত্রীপ্রতি ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
মাদারগঞ্জের ব্যবসায়ী আজগর আলী বলেন, সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ নৌপথে স্বাভাবিক সময়ে খেয়ানৌকায় যাত্রীপ্রতি ভাড়া ৪০ টাকা। অথচ আদায় করা হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। ৫০ টাকা মোটরসাইকেলের ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ২০০ টাকা। নৌকার মাঝি সোলায়মান শেখ বলেন, বেশি ভাড়া আদায় করলেও তা নৌকার মাঝিদের পকেটে যায় না। ইজারাদার শুধু সারিয়াকান্দির কালীতলা ঘাট ইজারা নিয়েছেন। অথচ যাত্রীদের জিম্মি করে অবৈধভাবে শুধু তিনি মাদারগঞ্জ অংশের জামথল ঘাট থেকেই বছরে ১ কোটি টাকার টোল আদায় করছেন।
এ ব্যাপারে বগুড়া জেলা পরিষদের কালীতলা ঘাট ইজারাদার শাহাদত্ হোসেন বলেন, বগুড়া জেলা পরিষদ থেকে সারিয়াকান্দির কালীতলা ঘাট ৬০ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছি। নদীর এক তীরের খেয়াঘাট থেকে ঐ পরিমাণ টোল আদায় হয় না। বাধ্য হয়ে জামথল ঘাট সাব-লিজ নিতে হয়েছে। খেয়ানৌকার মাথাপিছু ভাড়া ৪০ টাকা। এর বেশি ভাড়া আদায় করার কথা নয়।
বগুড়া জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এ কে এম আসাদুর রহমান বলেন, জেলা পরিষদ থেকে শুধু কালীতলা খেয়াঘাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। জামথল খেয়াঘাট থেকে ইজারা আদায় করা হলে তা অবৈধ। বিষয়টি দেখা হবে।
