লাকসামে শহীদ বেদীতে ফুল দিতে গিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে সাবেক এমপি কর্নেল আজিম ও বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম (চৈতি কালাম) গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ বাধে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ পরস্পরকে দোষারোপ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ৮টায় আজিম গ্রুপের নেতাকর্মীরা পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম খোকনের নেতৃত্বে শহীদ বেদীতে ফুল দিতে যায়। কিছুক্ষণ পর চৈতি কালাম গ্রুপের নেতাকর্মীরা পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশেম মানুর নেতৃত্বে শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়। পরে শহীদ বেদীতে ফুল দিতে গিয়ে উভয় পক্ষের কর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে বেদীতে ফুল দিয়ে উভয় গ্রুপ শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করে।
পরে সদর হাসপাতালের সামনে দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষকালে অনেককে ডাকাতিয়া নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মরক্ষা করতে দেখা যায়। এতে উভয় গ্রুপের অন্তত ৫ জন আহত হয়।
এ বিষয়ে সাবেক এমপি কর্নেল আজিম সমর্থিত পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম খোকন বলেন, আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই চৈতি কালাম গ্রুপের লোকজন আমাদের কর্মীদের ওপর ইটপাটকেল ছোঁড়ে। এতে ফারুক (৩৫) নামে যুবদলের এক কর্মীর হাত ভেঙে গেছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে সংঘর্ষের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
অপরদিকে, চৈতি কালাম সমর্থিত পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশেম মানু বলেন, আমরা শহীদ বেদীতে ফুল দিতে গেলে ওই গ্রুপ আমাদের বাধা দেয়। পরে বাজারে ফেরার পথে তারা আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে রুবেল (৩০) নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক কর্মী আহত হয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন ভূইয়া বলেন, এমন ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।
