শিশুসন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছিলেন বাবা-মা। বাড়তি টাকা আয়ের জন্য স্বামী-স্ত্রী দুই জনই কাজ নেন গার্মেন্টসে। রবিবার রাতে মা গিয়েছিলেন গার্মেন্টসে কাজে, অন্যদিকে বাবা ঘরের দরজায় তালা দিয়ে গিয়েছিলেন বাইরে, দোকান থেকে ডিম আনতে। ফিরে এসে দেখেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন ধরে পুড়ে মারা গেছে তাদের তিন আদরের ধন। গত রবিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার সিডস্টোর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
এদিকে একসঙ্গে তিন শিশুসন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন বাবা স্বপন মিয়া ও মা মদিনা বেগম। আহাজারি করে তারা বলছেন, তিন সন্তানের মৃত্যুতে তার সব শেষ হয়ে গেছে। এখন তারা কী নিয়ে বাঁচবেন?
নিহত এই তিন শিশু হলো: সাবিয়া (৯) নাফিয়া (৭) ও রায়হান (৩)। তাদের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের বেখরীকান্দা শুনই গ্রামে। গতকাল সোমবার সকালে ঐ শিশুদের লাশ তাদের বাড়িতে নেওয়া হয়। তাদের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। লাশ দেখার জন্য আশপাশের নারী-পুরুষ ও শিশুরা ভিড় করে বাড়িতে। গতকাল বিকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের লাশ দাফন করা হয়।
জানা যায়, তিন মাস আগে কাজের সন্ধানে স্বপন মিয়া তার পরিবার নিয়ে নেত্রকোনা থেকে ভালুকা যান। সিডস্টোর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় উঠেন তারা। সেখানে একটি গার্মেন্টসে স্বামী-স্ত্রী দুই জনই চাকরি করতেন। রবিবার রাতে মদিনা গার্মেন্টসে ও স্বপন মিয়া ডিম আনতে সন্তানদের ঘরে রেখে তালা দিয়ে বাইরে গিয়েছিলেন। রাত সোয়া ৯টার দিকে হঠাৎ ঘরে বিস্ফোরণ ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজন ফায়ার স্টেশনে খবর দেন। দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অগ্নিদগ্ধ তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে তারা। তাদের ধারণা গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বসতঘরে এই আগুন লাগে।
স্বপন মিয়া আহাজারি করে বলেন, ছেলে-মেয়েদের সুখের কথা চিন্তা করে তিনি দিনরাত কাজ করে যাচ্ছিলেন। তিন সন্তানের মৃত্যুতে তার সব শেষ হয়ে গেছে। মা মদিনা বেগম আহাজারি করে বলছিলেন, ছেলেমেয়েরা শিক্ষিত হয়ে পরিবারে সুখ আনবে—এমনটা ভেবে তিনি তাদের পড়াশোনায় উত্সাহ দিতেন। স্বামীর আয়ে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছিল। তাই তিনি নিজেও একটি গার্মেন্টসে কাজ নেন। দুর্ঘটনায় তাদের সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
