চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ
পিনাকি দাসগুপ্ত
সুমন খন্দকার সাগর পেশায় সিএন্ডএফ এজেন্ট। নুরুল হক পোশাক-আশাকে একেবারে গোবেচারা ভদ্রলোক। আব্দুর রহমান, কথিত সাংবাদিক। দেখে বুঝার উপায় নেই, তারা ইয়াবার ব্যবসার সাথে জড়িত। অথচ তারা তা নিয়েই কারবার করছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কিংবা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তাদের কখনো গ্রেফতার হতে হয়নি। তারা ইয়াবার চালান সরাসরি টেকনাফ থেকে এনে রাজধানীতে নানা কৌশলে পৌঁছে দিত খুচরা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে। সম্প্রতি মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ফাঁদে আটকা পড়েছে এই চক্র। উদ্ধার করেছে ৪ হাজার ১৫০ পিস ইয়াবা। আর তাতেই বেরিয়ে আসে তাদের ফাঁকফোকর। ইয়াবা জব্দের ঘটনায় মতিঝিল, মুগদা এবং হাজারীবাগ থানায় পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ঢাকা মেট্রো অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিল সুমন খন্দকার সাগর সিএন্ডএফ এজেন্ট ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। কিন্তু প্রমাণের অভাবে তাকে আটক করা যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে সোর্সের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ইয়াবা কেনার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়। আমাদের পাতানো ফাঁদে সে ধরা পড়ে। পরবর্তীতে গত ১৮ এপ্রিল বিকাল তিনটার দিকে তার মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার একটি বহুতল ভবনে তার সিএন্ডএফ এজেন্ট অফিসে অভিযান চালানো হয়। সেখান উদ্ধার করা হয় ৫৫০ পিস ইয়াবা। এ সময় আট করা হয় তার দুই সহযোগীকে। ইয়াবাসহ আটকের পর ওই ভবনের অন্য অফিসের লোকজন জানতে পারে সুমন খন্দকার ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। সুমন খন্দকারের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার আদিয়াবাদ।
বর্তমান ঠিকানা রামপুরা ইস্টার্ন হাউজিংয়ের বি ব্লকে। পরবর্তীতে সুমনের দেওয়া তথ্য মতে পরদিন ১৯ এপ্রিল নুরুল হকের হাজারীবাগ থানাধীন ওয়েস্ট ধানমন্ডি হাউজিং এলাকা বাড়ি নম্বর- ৭, রোড নম্বর- ৩, ব্লক এ অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ২ হাজার ৫শ পিস ইয়াবা। এরপর তার দেওয়া তথ্য মতে কথিত সাংবাদিক আব্দুর রহমানের মুগদার ৫০/৪ মানিক নগর ওয়াসা রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ১৫৫০ পিস ইয়াবা। নুরুল হকের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর থানাধীন বিঘ্নপুর।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এ কর্মকর্তা বলেন, সুমন খন্দকার সাগর, নুরুল হক ও আব্দুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। রিমান্ডে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে আরো তথ্য পাওয়া যাবে।
