এএসপি পদোন্নতি প্রশ্নে ইন্সপেক্টররা হতাশ

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৪৭

জামিউল আহসান সিপু

পুলিশের ৬শ ইন্সপেক্টরের পদোন্নতি আটকে আছে। এই ৬শ ইন্সপেক্টর ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত পুলিশ বিভাগে সাব-ইন্সপেক্টর পদে যোগদান করেন। এ অবস্থায় তাদের চাকরির বয়স আছে ১ বছর থেকে ৪ বছর পর্যন্ত। অনেকের আগামী বছরের মধ্যে অবসরে যাওয়ার সময় এসেছে। পদোন্নতি না হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের এসব পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান বলেন, এটি বিভাগীয় পর্যায়ের পদোন্নতি। শূন্য পদের বিপরীতে পদোন্নতি দেওয়া হয়। কিন্তু উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ খালি না থাকায় পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে আগামী ২/৩ মাসের মধ্যে বেশ কিছু পদ খালি হবে। তখন পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র জানায়, এএসপি পদে পদোন্নতির জন্য পুলিশ সদর দপ্তরের (পিএএল) তালিকায় ৬শ জন ইন্সপেক্টর যোগ্যতা অর্জন করে আছেন। এরা ৯১ সালের এসআই ক্যাডেটদের মধ্যে ১শ জন, ৯২ সালের এসআই ক্যাডেটদের মধ্যে ২৫০ জন ও ৯৩ সালের এসআই ক্যাডেটদের মধ্যে ২৫০ জন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী একজন ইন্সপেক্টর জানান, তারা সাব-ইন্সপেক্টর পদে যোগদানের পর নিয়ম অনুযায়ী ৬ বছর পর ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতির জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেন। কিন্তু পদোন্নতির জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণ কাজ সম্পন্ন করতে আরো ৫ বছর চলে যায়। এরপর রেঞ্জ এ্যাপ্রুভ লিস্ট (আরএএল) ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স অ্যাপ্রুভ লিস্ট (পিএএল) করতে আরো ২/৩ বছর চলে যায়। এরপর পদ খালি থাকা সাপেক্ষে পদোন্নতি দিয়ে গিয়ে আরো যায় ৪/৫ বছর। ৯১ সালে যোগদানকৃত এসআই ক্যাডেটরা ১৫ বছর পর ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পান। ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পাওয়ার ৫ বছর পর তিনি এএসপি পদে পদোন্নতি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেন। এরপর এই পদের জন্য পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পিএএল লিস্ট অন্তর্ভুক্তকরণ কাজ সম্পন্ন করতে চলে গেছে ৫ বছর। সব মিলিয়ে তারা যখন এএসপি পদে পদোন্নতির জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন—তখন চাকরির বয়স আছে ৩/৪ বছর।

পুলিশ সদর দপ্তরের অপর একটি সূত্র জানায়, পুলিশে মোট এএসপি পদের মধ্যে শতকরা ৬৬ ভাগ পূরণ করা হয় বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে। বাকি ৩৪ ভাগ পদ বিভাগীয় কোটায় ইন্সপেক্টরদের পদোন্নতি দিয়ে পূরণ করা হয়। এই ৩৪ ভাগ পদের মধ্যে ১৫ ভাগ পদ সশস্ত্র পুলিশ (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) ও ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্টদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। ফলে সরাসরি এসআই পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা মাত্র ১৯ ভাগ পদ পান। বর্তমানে পুলিশে ২ লাখ ১০ হাজার জনবলের মধ্যে সাড়ে ৬ হাজার ইন্সপেক্টর হিসাবে কর্মরত রয়েছেন।

ভুক্তভোগী অপর এক ইন্সপেক্টর বলেন, এএসপি পদে পদোন্নতি সংক্রান্ত দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বেশিরভাগ ইন্সপেক্টর পদোন্নতি পাওয়ার আগেই অবসরে চলে যান। এ কারণে বেশিরভাগ ইন্সপেক্টরদের মধ্যে এখন এক ধরনের হতাশা বিরাজ করছে।